• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৮ দুপুর

কান্না থামছে না আবরারের মায়ের

  • প্রকাশিত ০৪:৪৩ বিকেল অক্টোবর ৮, ২০১৯
আবরার ফাহাদের মা
সন্তান হারানোর শোকে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন। ঢাকা ট্রিবিউন

আহাজারি করতে করতে রোকেয়া খাতুন বলেন, 'আমার ছেলে লাখে একটাও হয় না'

কান্না থামছে না বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুনের। ছেলে হারানোর শোকে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। ছেলের স্মৃতিচারণ করে বার বার তার হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি করছেন।  

আহাজারি করতে করতে রোকেয়া খাতুন বলেন, "আমার ছেলে কী আপরাধ করেছিল? কিসের জন্য তারা আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করলো? আমার ছেলে অনেক মেধাবী। সে কারো সাথে উচ্চস্বরে কথা বলেনি। আর আমার ছেলেকে আজ হত্যা করা হলো? আমি এর বিচার চাই। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই। আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিলো যে তাকে প্রাণ দিতে হলো?" 

তিনি আরও বলেন, "আমার ব্যটা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমার ব্যটার তো কোনো খুঁত নাই। আমার ছেলে লাখে একটাও হয় না। সবার ঘরে ব্যাটা থাকতে পারে। আমার ব্যাটার মতো ব্যাটা ছিল না। আমার ব্যাটা কোনো দিনও জোরে কারো সাথে কথা বলে নাই। কোনো রাজনীতির মিছিলে যায় নাই। যেইখানে রাজনীতির আলাপ করে সেইখানেও যায় নাই। আমার বেটা শুধু লেখাপড়া নিয়াই থাকতো।" 

আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যে ছেলেটা বিকেল ৫টায় ঢাকায় পৌঁছাল, তাকে ৮টার দিকে নির্যাতন করার জন্য ডেকে নিয়ে গেল। ছয় ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালালো। এটা অবশ্যই পরিকল্পিত। 

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় আবরারের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে আবরারের দাফন সম্পন্ন হয়। 

নিহত আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আবরারের লাশ কুষ্টিয়া এসে পৌঁছায়। সকাল সাড়ে ৬টায় পিটিআই রোডস্থ নিজ বাসভবনের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল ১০টায় কুমারখালীর উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে তৃতীয় জানাজার নামাজ শেষে তাকে দাফন করা হয়। 

রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে সোমবার ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। আসামিদের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

আবরার হত্যার ঘটনায় গতকাল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, ছাত্রলীগের নেতা অনীক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম, ইফতি মোশারেফ, বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না, ছাত্রলীগের সদস্য মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর ও মোহাজিদুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

এছাড়া আবরার ফাহাদকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগ থেকে ১১ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। 

আবরার ফাহাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্টের বরাত দিয়ে ভোঁতা কোনো বস্তু দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সোমবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন। ময়নাতদন্তে আবরারের শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।