• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০২ রাত

শিক্ষার্থীদের ৮ দফা দাবির প্রতি নীতিগত সমর্থন জানালেন বুয়েট ভিসি

  • প্রকাশিত ০৭:০৩ রাত অক্টোবর ৮, ২০১৯
বুয়েট ভিসি
বুয়েট ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ফাইল ছবি/মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

আবরার হত্যাকাণ্ডের ৩৬ ঘণ্টা পরেও কেন তিনি স্বেচ্ছায় আসেননি, কেন তাকে আল্টিমেটাম দিয়ে ক্যাম্পাসে আনতে হল? ভিসির কাছে এমন প্রশ্নও ছুঁড়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর ক্যাম্পাসে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে আটটি হলের প্রোভোস্টদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন ভিসি।

আবরার হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে নীতিগত সমর্থন জানান অধ্যাপক সাইফুল।

তিনি বলেন, তোমাদের দাবিগুলো আমরা মেনে নিয়েছি। তোমাদের দাবির সঙ্গে আমি নীতিগত সমর্থন জানাচ্ছি। আমি তোমাদের সঙ্গে আছি।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিকেল ৫টার মধ্যে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে আসার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে জানিয়েছিলেন তারা।


আরও পড়ুন- বুয়েটে ভর্তি ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা আন্দোলনকারীদের


এদিকে, আবরার হত্যাকাণ্ডের ৩৬ ঘণ্টা পরেও কেন তিনি স্বেচ্ছায় আসেননি, কেন তাকে আল্টিমেটাম দিয়ে ক্যাম্পাসে আনতে হল? ভিসির কাছে এমন প্রশ্নও ছুঁড়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরারের হত্যাকারীদের ফাঁসিসহ আট দফা দাবিতে বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের দুই দিন হতে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির অনুপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা ভিসিকে বিকেল ৫টার মধ্যে ক্যাম্পাসে এসে জবাবদিহিতাসহ আট দফা দাবি জানান। পরে ভিসি উপস্থিত না হলে তারা কার্যালয় ঘেরাও করেন।


আরও পড়ুন- তালা মেরে ভিসিকে অবরুদ্ধ করলো বুয়েট শিক্ষার্থীরা


প্রসঙ্গত, রবিবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে সোমবার ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। আসামিদের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।


আরও পড়ুন- কান্না থামছে না আবরারের মায়ের


আবরার হত্যার ঘটনায় গতকাল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, ছাত্রলীগের নেতা অনীক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম, ইফতি মোশারেফ, বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না, ছাত্রলীগের সদস্য মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর ও মোহাজিদুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এছাড়া, আবরার ফাহাদকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগ থেকে ১১ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

আবরার ফাহাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্টের বরাত দিয়ে ভোঁতা কোনো বস্তু দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সোমবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন। ময়নাতদন্তে আবরারের শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।