• শুক্রবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৯ রাত

‘পাওনা টাকা চাওয়ায়’ যুবকের মুখে মলমূত্র ঢেলে দিলেন যুবলীগ নেতা!

  • প্রকাশিত ১০:৩৩ রাত অক্টোবর ৮, ২০১৯
বরিশাল
বদনাভর্তি মলমূত্র খাওয়ানোর ছবিটি ভিডিও থেকে নেওয়া।

‘একপর্যায়ে তারা আজমের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করেন। পরে মাহবুব বদনা ভর্তি মলমূত্র আজমের মুখে ঢেলে দেন। ওই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাদল’

হাত-পা বেঁধে মারধরের পর এক যুবককে মলমূত্র খাওয়ানো ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে যুবলীগ কর্মীসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে তাদের আটক করা হয়। বরিশালের হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালতলা এলাকায় ৩০ সেপ্টেম্বর এই ঘটনা ঘটেছে। ওই যুবকের নাম আজম বেপারী (২৫)। তিনি হরিনাথপুর বাজার এলাকার মহিউদ্দিন বেপারীর ছেলে। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

আটক তিন জন হলেন- হিজলার হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদার, রশিদ ও কবির।

হিজলা থানার ওসি অসীম কুমার সিকদার জানান, মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

ওসি জানান, মাহবুব সিকদারের নেতৃত্বে টুমচর এলাকার রশিদ মাতুব্বর ও সোলায়মানসহ আট জন মিলে মলমূত্র খাওয়ানোর কাজে অংশ নেয় বলে ভিডিও দেখে নিশ্চিত করেছেন আজমের বাবা। আর মলমূত্র খাওয়ানোর দৃশ্য যুবলীগ নেতা মাহবুবের চাচাতো ভাই হরিনাথপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদল ভিডিও ধারণ করেন। এছাড়া পুরো ঘটনার নেপথ্যে থেকে ইন্ধন দিয়েছেন আজমের ব্যবসায়িক অংশীদার জহির।

আজমের বাবা মহিউদ্দিন বেপারী জানান, জহির ও আজম দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছিলেন। প্রথমদিকে তারা হরিনাথপুর লঞ্চঘাটে জ্বালানি তেলের ব্যবসা করতেন। এরপর তারা জমির ব্যবসা শুরু করেন। জমি ব্যবসায় তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হয়। আজম ব্যবসায়িক সমান অংশীদার হলেও জহির ওই টাকা আত্মসাৎ করায় তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সম্প্রতি আজম ব্যবসার লাভের টাকা দাবি করলে জহির ক্ষিপ্ত হয়ে আজমকে শায়েস্তা করতে ফন্দি করেন। জহিরকে মারধর ও অপমান করতে যুবলীগ নেতা মাহবুব ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি বাদলকে টাকার বিনিময়ে ভাড়া করেন। পরিকল্পনামতো ৩০ সেপ্টেম্বর আজমকে বাড়ি থেকে ডেকে তালতলা জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় নিয়ে যান মাহবুব। সেখানে আগে থেকেই মাহবুব ও তার সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আজমের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করেন। পরে মাহবুব বদনা ভর্তি মলমূত্র আজমের মুখে ঢেলে দেন। ওই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাদল।

আজম বেপারীর বাবা মহিউদ্দিন বেপারী দাবি করেন, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তারা ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি করেন। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এ কারণে আজম থানায় অভিযোগ দিতে সাহস পায়নি। এছাড়া ঘটনার পর তারা আজমকে হুমকি দিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে আইন-আদালত করলে আজমকে হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেবে। এ কারণে আজমকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে অবস্থান করা আজমের জন্য নিরাপদ ছিল না।

এদিকে সোমবার (৭ অক্টোবর) ওই ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দিলে তা ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনার পর লোকলজ্জায় আজম বেপারী এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।

পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার (৭ অক্টোবর) ঘটনাটি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে হিজলা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী লিয়াকত বলেন, ‘মাহবুব সিকদার আগের কমিটির সদস্য ছিলেন। তাকে যেন বর্তমান কমিটির কোনও পদ না দেওয়া হয়, তা বলা হয়েছে। শাহারিয়ার বাদল হরিনাথপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির পদে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধেও দলীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’