• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধসহ নতুন ১০ দফা দাবি শিক্ষার্থীদের

  • প্রকাশিত ১১:৫৯ সকাল অক্টোবর ৯, ২০১৯
আবরার হত্যা
আবরারের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঢাকা ট্রিবিউন

প্রশাসনের জবাবদিহিতা, বিগত নির্যাতনের বিচার, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ১১ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকাল ৫টার মধ্যে প্রভোস্টকে প্রত্যাহারসহ ১০ দফা দাবি জানান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ১০ দাবি না মানা পর্যন্ত টানা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৯ অক্টোবর) সকাল থেকে শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হয়। দাবি না মানা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা। এসময় শেরে বাংলা হলের প্রোভোস্টকে প্রত্যাহারের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।


আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের ৮ দফা দাবির প্রতি নীতিগত সমর্থন জানালেন বুয়েট ভিসি


এছাড়া ভিসি ৩০ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে কেনো উপস্থিত হয়নি দুপুর ২টার মধ্যে তার জবাবদিহি করার আল্টিমেটাম দেয় আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীরা জানান, মামলার সকল খরচ ও আবরারের পরিবারের ক্ষতিপূরণ বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করতে হবে। মামলাটি দ্রুততম ট্রাইব্যুনালে অধীনে দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা করতে হবে।


আরও পড়ুন: বুয়েটে ভর্তি ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা আন্দোলনকারীদের


প্রশাসনের জবাবদিহিতা, বিগত নির্যাতনের বিচার, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ১১ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকাল ৫টার মধ্যে প্রভোস্টকে প্রত্যাহারসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন বুয়েটের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি দাবির সঙ্গে তারা আল্টিমেটাম দিয়েছে। আর এই দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও অ্যাকাডেমিক কাজ চলবে না বলেও জানিয়ে দেন তারা। সকাল ১১টায় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই ঘোষণা পড়ে শোনান।

তাদের দাবিগুলো হলো:

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে শনাক্তকারি খুনিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সনাক্তকৃত সবাইকে আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে আজীবনের জন্য বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।

৩. মামলা চলাকালীন সকল খরচ ও আবরারের পরিবারের সব ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে। এই মর্মে অফিশিয়াল নোটিশ ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে প্রমাণ করতে হবে।

৪. দায়ের করা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করার জন্য প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সব প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত ছাত্রদের আপডেট করতে হবে।

৫. অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিশিয়াল নোটিস দিতে হবে।

৬. বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটে হলে হলে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করে রাখা হয়েছে। মোস্ট জুনিয়র ব্যাচকে সবসময় ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক জোর করে রাজনৈতিক মিছিল মিটিংয়ে যুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনও সময় যেকোনও হল থেকে সাধারণ ছাত্রদের জোরপূর্বক হল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হলে হলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের এহেন কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। তাই আগামী ৭ দিনের (১৫ অক্টোবর) মধ্যে বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৭. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি এবং পরবর্তীতে ৩৮ ঘণ্টা পরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেন এবং কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ৯ অক্টোবর দুপুর ২টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে।

৮. আবাসিক হলগুলাতে র‌্যাগিংয়ের নামে এবং ভিন্ন মতবলম্বীদের ওপর সব প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং এ ধরনের সন্ত্রাসে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। এইসঙ্গে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল শুক্রবারের (১১ অক্টোবর)বিকাল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৯. পূর্বে ঘটা এধরনের ঘটনা প্রকাশ এবং পরবর্তীতে ঘটা যেকোনও ঘটনা প্রকাশের জন্য একটা কমন প্ল্যাটফর্ম (কোনও সাইট বা ফর্ম) থাকতে হবে এবং নিয়মিত প্রকাশিত ঘটনা রিভিউ করে দ্রুততম সময়ে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বুয়েটের বিআইআইএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শন করতে হবে এবং পরবর্তী একমাসের মধ্যে কার্যক্রম পূর্ণরূপে শুরু করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সবগুলো হলের প্রত্যেক ফ্লোরের দুপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।সন্ধ্যা ৭টায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি দেয় শিক্ষার্থীরা। এসময় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানায় তারা।