• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ দুপুর

প্রধানমন্ত্রী: কে ছাত্রলীগ বা কী জানি না, অপরাধী অপরাধীই, তার বিচার হবে

  • প্রকাশিত ০৫:১৮ সন্ধ্যা অক্টোবর ৯, ২০১৯
শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি/ ফোকাস বাংলা

‘একটা বাচ্চা ছেলে, ২১ বছর বয়স। তাকে হত্যা করা হলো, মারা হলো পিটিয়ে পিটিয়ে। কী অমানবিক! পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা দেখেছি। সব ইনজুরি ভেতরে’

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে কোন দল করে কী করে তা আমি দেখি না, অপরাধী অপরাধীই। বুয়েটে এই ঘটনা যখন ঘটে সকালে শুনে আমি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম আলামত সংগ্রহ করতে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে। ছাত্ররা নামার আগেই আমরা তৎপরতা শুরু করি। কে ছাত্রলীগ বা কী জানি না। অপরাধী অপরাধীই, অন্যায়কারীর বিচার হবে।”

বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টায় গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি তো বলেছি, ঘটনা সঙ্গে জড়িত কোথায় কে ছিল সব কয়টাকে গ্রেফতার করতে। তবে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার পর সেটা আনতে দেবে না। আমার মনে প্রশ্ন দেখা দিলো, এটা কেন? হত্যাকারীদের কেউ কি এর মধ্যে আছে যে ফুটেজ প্রকাশিত হলে তাদের পরিচয় বের হয়ে যাবে কিনা। পরে তারা ফুটেজ নিয়ে আসলো এবং কর্তৃপক্ষকে একটা কপি দিয়ে আসলো।”

তিনি বলেন, “একটা বাচ্চা ছেলে, ২১ বছর বয়স। তাকে হত্যা করা হলো, মারা হলো পিটিয়ে পিটিয়ে। কী অমানবিক! পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা দেখেছি। সব ইনজুরি ভেতরে।”


আরো পড়ুন - প্রধানমন্ত্রী: দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করে দেবে সেটা কখনো হতে পারে না


তিনি বলেন, “একটা কথা আমার মাথায় এলো। ২০০১ সালে আমাদের নেতাকর্মীদের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মারা হতো এমনভাবে যাতে বাইরে থেকে বোঝা যেত না। বাংলাদেশের ইতিহাসে এপর্যন্ত কত হত্যা হয়েছে। ছাত্রদল বুয়েটে টেন্ডারবাজি করতে গিয়ে সনিকে হত্যা করেছে। ওই বুয়েটে আমাদের কত নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমরা কারো কাছে বিচার পেয়েছি? ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমি চেষ্টা করেছি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এধরনের কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা এধরনের ঘটনা ঘটাবে তারা আমার পার্টির এটা আমি কখনই মেনে নেবো না। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকেছি। তাদের বহিষ্কার করতে বলেছি, পুলিশকে বলেছি অ্যারেস্ট করতে। ছাত্র রাজনীতিতে, এই বুয়েটে আমাদের অনেক নেতাকর্মীকেও তো হত্যা করা হয়েছে। কেউ কোনোদিন বলেছে, কেউ অ্যারেস্ট হয়েছে? এটা করা হয়নি। আমি ক্ষমতায় আসার পর চেষ্টা করেছি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে। কে ছাত্রলীগ বা কী জানি না। অপরাধী অপরাধীই, অন্যায় যে করেছে সে অন্যায়কারী। তার বিচার হবে।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আন্দোলন বা কিসের জন্য। বিচার তো হবেই। যে মা সন্তান হারিয়েছে, যে বাবা সন্তান হারিয়েছে তাদের যে কষ্টটা কী সেটা আমি বুঝি। একটা সাধারণ পরিবারের ছেলে, একটা ব্রিলিয়ান্ট ছেলে। তাকে কেন হত্যা করা হলো। এই নৃশংসতা কেন, এই জঘন্য কাজ কেন। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। কোনো দল টল বলে আমি মানি না। আমি বিচার পাইনি। যখন কেউ বিচার দাবি করে সেটা আমি বুঝি।”


আরো পড়ুন - চিকিৎসক: আবরারের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে