• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪১ রাত

প্রেমের টানে ধর্মান্তরিত হয়ে নির্যাতনের শিকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী

  • প্রকাশিত ০৭:১৭ রাত অক্টোবর ৯, ২০১৯
যৌন হেনস্থা
প্রতীকী ছবি

ধর্মান্তরিত হওয়ায় ধর্মীয় প্রথানুযায়ী ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেছে তার পরিবার

দুই সন্তানকে ফেলে প্রেমের টানে ধর্মান্তরিত হয়ে তিন সন্তানের জনক মুসলিম প্রেমিককে বিয়ে করেছেন টাঙ্গাইলের মধুপুরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক নারী। এরপরেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি।

ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম ধর্মাবলম্বী প্রেমিককে বিয়ে করার পর প্রেমিকের প্রথম স্ত্রীর লোকজন এবং স্থানীয় আদিবাসীদের নির্যাতনে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই নারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা ওই নারীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী অরণখোলা গ্রামের মোস্তফা নামে এক ব্যক্তির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২০ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হন এবং ২৮ জুলাই নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে মোস্তফাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা ঢাকায় চলে যান।

এদিকে, ধর্মান্তরিত হওয়ায় ধর্মীয় প্রথানুযায়ী ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেছে তার পরিবার।

ওই নারীর অভিযোগ, গত ২৭ সেপ্টেম্বর তার পাতানো বোনজামাই হারুন অর রশিদের সহায়তায় প্রেমিকের প্রথম স্ত্রী আসমা বাড়িতে ডেকে এনে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করেন। সালিশ বৈঠকে স্থানীয় আদিবাসী বিহলা (৫০), মনিতা (২৮) এবং সুধা (৫৫) মিলে আছিয়াকে বেদম মারপিট করে মোস্তফাকে ছেড়ে বাবার বাড়িতে যেতে চাপ দেন।

পরে তাকে আছিয়াকে স্থানীয় ইউপি সদস্য নগেন্দ্রের জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হয়। মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরদিন সকালে ওই নারীকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

তবে মোস্তফার বাড়ি ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ওই নারী।

মোস্তফা জানান, দ্বিতীয় বিয়ের পর আমার প্রথম স্ত্রী স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর চালিয়েছে। আমাকে মেরে ফেলারও হুমকি দিচ্ছে তারা।

পুরো বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, আমি সবই শুনেছি। পূজার ব্যস্ততা শেষ হলে মীমাংসা করা হবে।