• মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০২ বিকেল

আবরার হত্যায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় বুয়েট শিক্ষার্থী অভিকে গ্রেফতার

  • প্রকাশিত ০৯:০৩ রাত অক্টোবর ৯, ২০১৯
বুয়েট
আবরার ফাহাদ। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

বুধবার দুপুরে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শাখাওয়াত ইকবাল অভির সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।

বুধবার (৯অক্টোবর) দুপুরে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। খবর বাংলা ট্রিবিউনের। 

জানা গেছে, অভিকে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে বুধবার দুপুরে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগ। ডিবি কার্যালয়ে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আবরার হত্যাকাণ্ডে অভির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ডিবি দক্ষিণের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

ডিবি দক্ষিণ বিভাগের (লালবাগ জোন) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার খন্দকার রবিউল আরাফাত লেলিন জানান, হত্যাকাণ্ডে অভির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আবরারের বাবার দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকিদেরও গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।


আরো পড়ুন - প্রধানমন্ত্রী: কে ছাত্রলীগ বা কী জানি না, অপরাধী অপরাধীই, তার বিচার হবে


আবরার হত্যা মামলায় এ নিয়ে গ্রেফতারের সংখ্যা ১৪ জন। এর আগে তিন দফায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। গত ৬ অক্টোবর রাতে আবরারকে হত্যার পর ৭ অক্টোবর ডিএমপির চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন তার বাবা মো. বরকত উল্লাহ। মামলাটির তদন্তভার পায় ডিবি দক্ষিণ বিভাগ। মামলা দায়েরের পর ৭ অক্টোবর ১০ জনকে, ৮ অক্টোবর বিকেলে একজনকে ও সন্ধ্যায় দুইজনকে গ্রেফতার করে ডিবি। প্রথম দশজনকে ৮ অক্টোবর পাঁচ দিন করে এবং ৯ অক্টোবর আরও ৩ জনের পাঁচদিন করে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে আবরারকে হত্যার প্রতিবাদে বুয়েটে তৃতীয় দিনেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ১০ দফা দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। বুয়েটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। শুধু শিক্ষার্থীরা নন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে কর্মসূচি পালন করছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা।


আরো পড়ুন - চিকিৎসক: আবরারের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে 


উল্লেখ্য, রবিবার (৬ অক্টোবর) রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে। রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় একাধিক ভিডিও ফুটেজও পাওয়া গেছে। আবরারকে হত্যার ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে হত্যায় সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে বুয়েট ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আসামির সংখ্যা ১৪তে উন্নীত হলো।