• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধর্ষণে সেনাসদস্যের সম্পৃক্ততা থাকলে সিভিল জেলেও পাঠানো হবে’

  • প্রকাশিত ০৪:১৪ বিকেল অক্টোবর ১০, ২০১৯
সেনাপ্রধান
বগুড়া সেনানিবাসে আর্মড কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে ষষ্ঠ সাঁজোয়া কোরের পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ ঢাকা ট্রিবিউন

বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া সেনানিবাসে আর্মড কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে ষষ্ঠ সাঁজোয়া কোরের পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাদের সকল কার্যক্রম অতি স্বচ্ছতার সাথে করা হয়; কোনকিছু লুকানোর নেই’

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আইএসপিআর থেকে বিফ্রিং দেওয়া হয়েছে। বিগ্রেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে কোনো সেনাসদস্যের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে শুধু চাকরিচ্যুতই নয়; তাকে সিভিল জেলেও পাঠানো হবে।”

বৃহস্পতিবার (১০ বৃহস্পতিবার) সকালে তিনি বগুড়া সেনানিবাসে আর্মড কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে ষষ্ঠ সাঁজোয়া কোরের পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, “আমাদের সকল কার্যক্রম অতি স্বচ্ছতার সাথে করা হয়; কোনকিছু লুকানোর নেই।”

তিনি বলেন, “প্রায় ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমল্ডলে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতা প্রশংসিত হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সেনাবাহিনীও কাজ করছে। শিশু ধর্ষণের ঘটনাস্থলে শুধু সেনাবাহিনী নয় অন্যান্য বাহিনীর টহলও ছিল।” 

সেনাপ্রধান বলেন, “ক্যাম্পগুলো থেকে রোহিঙ্গারা বের হয়ে যাচ্ছে, বিভিন্নস্থানে ধরাও পড়ছে। তারা দেশের বাহিরে যাওয়ার চেষ্টাও করছে। তাই অপরাধ ঠেকাতে, রোহিঙ্গাদের গতিবধি নিয়ন্ত্রণ ও তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাতটি ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে।”

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ওপর হামলাসহ বিভিন্ন বিশৃংখলা প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, “শান্তিচুক্তির আওতায় সেখানে সেনাসদস্য কমিয়ে ও অনেক ইউনিট গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। চুক্তিতে শর্ত ছিল শান্তি বাহিনী ও অন্যরা কোনও অস্ত্র রাখবে না কিন্তু তারা সে শর্ত ভঙ্গ করে যাচ্ছে। ইউপিডিএফ’র সাথে বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে। চাঁদাবাজিসহ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজেদের মধ্যে অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই আমরা অতীতের চেয়ে কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছি।”

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হচ্ছে। এরপর সব নিয়ন্ত্রণ হবে।”

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, “বাংলাদেশের সাংবাদিকরা যুদ্ধ-বিগ্রহ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেননি। আমরা এটা কামনাও করি না। এরপরও শান্তিকালীন বা যুদ্ধকালীন ডিফেন্সের জন্য সাংবাদিকের জন্য একটি ফ্যাকাল্টি খোলা হয়েছে। আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকরা এতে প্রশিক্ষণ লাভ করবেন।”