• রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫২ রাত

সোনালি ধানে ছেয়ে গেছে বান্দরবানের সবুজ পাহাড়গুলো

  • প্রকাশিত ০৭:০৪ রাত অক্টোবর ১০, ২০১৯
জুম চাষ
ধান কাটতে ব্যস্ত বান্দরবানের জুমচাষীরা ঢাকা ট্রিবিউন

বান্দরবানের ১১ টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জুমচাষ করে ম্রো সম্প্রদায়

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আদিপেশা জুম চাষ। পাহাড়ি ভূমিতে চিরাচরিত জুম চাষ প্রথা টিকিয়ে রাখতে আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম। এবছর জুমের ধানে স্বর্ণালী বর্ণ ধারণ করেছে বান্দরবান জেলার সবুজ পাহাড়গুলো। পাকা ধান পাহাড়ের জুমচাষীদের চোখে-মুখে এনে দিয়েছে হাসির ঝিলিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা ও আলীকদমসহ ৭টি উপজেলার পাহাড়ে জুম চাষ হয়। এখানকার মারমা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, খুমী, লুসাই, পাংখো, বম, চাকসহ ১১টি ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর বেশিরভাগ মানুষই জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। 

চাষীরা জানান, জুম চাষে উৎপাদিত ধান থেকে বছরের অন্তত ৮ মাসের খাদ্যের যোগান মজুদ করেন পাহাড়িরা। প্রতিবছর জেলার শত শত একর পাহাড়ি জমিতে জুম চাষ করা হয়, এবছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। 

বান্দরবানের  চিম্বুক পাড়ার জুম চাষি মেনড্রং ম্রো জানান, এবছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ফসল ভাল হয়েছে। নিজেদের জন্য রেখে বাকি ধান বিক্রি করে ভালো লাভ হবে। 

বান্দরবান কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, চলতিবছর জেলায় ৮৮৯৫ হেক্টর জমিতে জুম ধান চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৪শ ৫৩ মেট্রিক টন। এরমধ্যে রয়েছে- নিড়িখা, উফশি, পিডি, ককরো, বিনি, গেলং, কানভূঁই জাতের ধান। 

উল্লেখ্য, গতবছর জুম চাষ করা হয়েছিল ৮৪৫৮ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে। গতবছরের তুলনায় এবছর ৪৩৭ হেক্টর বেশি জমিতে জুম চাষ হয়েছে।

প্রতিবছর এপ্রিলের শেষের দিকে শুরু হয় জুমে ধান লাগানোর প্রক্রিয়া। প্রায় ৩-৪ মাস পরির্চযার পর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এসে ধান কাটা শুরু হয়ে শেষ হয় অক্টোবরে। তাই ফসল ঘরে তুলতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে জুমচাষী পরিবারগুলো। 

চিম্বুক এলাকার জুম চাষী থংপ্রে ম্রো বলেন, ফলন ভাল হওয়ায় আমরা খুব খুশি। পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে, সারা বছর নিশ্চিন্তে থাকতে পারব। 

ধান চাষের পাশাপাশি পাহাড়ি পরিবারগুলো ভুট্টা, মরিচ, যব, সরিষা, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, চিনার, বেগুন, কাকন ধান, মারপা, তিল, পুঁই ও টকপাতাসহ অনেক ধরনের শাক-সবজিও চাষ করে থাকেন। এবছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এসব ফসলেরও ভালো ফলন হয়েছে। 

জুম চাষি পরিবারগুলোকে ‘জুমিয়া’ নামেও ডাকা হয়। প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিলে জুম চাষের জন্য পাহাড়ে আগুন দেয় জুমিয়ারা। আর মে-জুন মাসের দিকে আগুনে পোড়ানো পাহাড়ে শুরু হয় জুম চাষ। 

বান্দরবানের ১১ টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জুমচাষ করে ম্রো সম্প্রদায়।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. একে এম নাজমুল হক বলেন, জুমে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতের ধানের ফলন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষি গবেষণা ও কৃষি অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জুম চাষ করা হলে জুমিয়াদের আর্থিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি সারা বছরের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।