• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০১ রাত

হত্যার একদিন আগে আবরারকে মেরে হল থেকে বের করার নির্দেশ

  • প্রকাশিত ০৯:৪৪ রাত অক্টোবর ১০, ২০১৯
স্ক্রিনশট
বুয়েট ও শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে তৈরি ‘এসবিএইচএসএল ১৫+১৬’নামে ফেসবুকের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে আবরারের হত্যাকারীদের কথোপকথনের স্ক্রিনশট। ঢাকা ট্রিবিউন

'১৭-এর আবরার ফাহাদকে মেরে হল থেকে বের করে দিবি দ্রুত; এর আগেও বলছিলাম; তোদের তো দেখি কোনও বিগারই নাই; শিবির চেক দিতে বলছিলাম; দুই দিন সময় দিলাম'

আবরার ফাহাদকে হত্যার একদিন আগে মেরে হল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন শেরে বাংলা হল শাখা ছাত্রলীগের ১৬তম ব্যাচের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

বুয়েট ও শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে তৈরি ‘এসবিএইচএসএল ১৫+১৬’নামে ফেসবুকের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে গত শনিবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১২ টা ৪৭ মিনিটে তিনি এই নির্দেশ দেন।

ওই মেসেঞ্জার গ্রুপে গত ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটে ১৬তম ব্যাচের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মেহেদী হাসান রবিন লেখেন, "১৭-এর আবরার ফাহাদ; মেরে হল থেকে বের করে দিবি দ্রুত; এর আগেও বলছিলাম; তোদের তো দেখি কোনও বিগারই নাই; শিবির চেক দিতে বলছিলাম; দুই দিন সময় দিলাম।"

পরে তিনি আরও লেখেন, "দরকারে ১৬ ব্যাচের মনিরের সঙ্গে কথা বলিস; ও আরও কিছু ইনফো (তথ্য) দিবে শিবির ইনভলভমেন্টের ব্যাপারে।"


আরও পড়ুন: আবরার হত্যাকাণ্ড: ছাত্রলীগ নেতা ইফতির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি


এর উত্তরে "ওকে ভাই" লেখেন ১৬তম ব্যাচের মনিরুজ্জামান মনির। পরদিন রবিবার ৭টা ৫২ মিনিটে মনির গ্রুপে লেখেন, "নিচে নাম সবাই"। এরপরই রাত ৮টা ১৩ মিনিটে আবরার ফাহাদকে তার রুম থেকে ডেকে নিয়ে যায় তানিম, বিল্লাহ, অভি, সাইফুল, রবিন, জিয়ন ও অনিক।

বুয়েট ও শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে তৈরি ‘এসবিএইচএসএল ১৫+১৬’নামে ফেসবুকের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে আবরারের হত্যাকারীদের কথোপকথনের স্ক্রিনশট। ঢাকা ট্রিবিউন

পরে রাত ১২ টা ৩৮ মিনিটে এই গ্রুপে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা লেখেন, "আবরার ফাহাদ কি হলে আছে?" জবাবে শামসুল ও সজীব ২ জন লেখেন, "২০১১-তে আছে।"

এই মেসেঞ্জার গ্রুপের অন্য আরেকটি কথোকথনে অমিত সাহা লিখেছেন, "আবরার ফাহাদরে ধরছিলি তোরা?"। ইফতি জবাব দেন, "হ"। অমিত আবারো লেখেন, "বের করছোস?" জবাবে ইফতি পাল্টা প্রশ্ন করেন, "কি হল থেকে নাকি স্বীকারোক্তি?" এর উত্তরে অমিত লেখেন, "স্বীকার করলে তো বের করা উচিত।"


আরও পড়ুন: নির্যাতনের ঘটনা জানাতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের নতুন ওয়েবপেজ


গ্রুপ মেসেঞ্জারে এর ঠিক পরেই ইফতি লেখেন, "মরে যাচ্ছে; মার বেশি হয়ে গেছে।" জবাবে অমিত লেখেন, "বাট তাকে তো লিগ্যালি বের করা যায়।" এর জবাবে একটি ইমোজি পাঠান ইফতি। পরে এই দুজনের আর কোনও কথোকথন পাওয়া যায়নি।"

ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে এই কথোপকথন প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন বলেন, "আমরা সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে এই হত্যাকাণ্ড তদন্ত করছি। কথোপকথনের বিষয়টিও যাচাই-বাছাই চলছে।"

উল্লেখ্য, রবিবার (৬ অক্টোবর) রাতে আবরারকে হত্যার পরদিন সোমবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।