• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২০ রাত

পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না, ভয়েস অব আমেরিকাকে বুয়েট ভিসি

  • প্রকাশিত ০৯:৪৫ সকাল অক্টোবর ১১, ২০১৯
বুয়েট ভিসি
বুয়েট ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ফাইল ছবি/মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

পদত্যাগ করবেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না কারণ, আমার এখানে কোনও অন্যায় নেই। আমি আমার ডিউটি পালন করেছি’

চেষ্টার কোনও ত্রুটি ছিল না তাই আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের ব্যর্থতা দেখছেন না বুয়েট এর উপাচার্য ড. সাইফুল ইসলাম। ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমার ব্যর্থতা কী করে হবে? আমি চেষ্টার কোনও ত্রুটি করিনি। আমি তো আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি আগেই।” খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

বুয়েটের সাবেক শিক্ষক ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী তার পদত্যাগের দাবি তুলেছেন এমন তথ্য জানালে এই দাবিকে যুক্তিযুক্ত মনে করেন না উপাচার্য সাইফুল ইসলাম। পদত্যাগ করবেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রশ্নই ওঠে না কারণ, আমার এখানে কোনও অন্যায় নেই। আমি আমার ডিউটি পালন করেছি।”

ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী সম্পর্কে উপাচার্য সাইফুল ইসলাম বলেন, “উনি আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ওখানে কাজ ফেলে এখানে এসে আমার সঙ্গে কথা না বলে আমার পদত্যাগ চাইলেন কীকরে? এটা এথিক্যাল হলো না। উনি সম্মানিত ব্যক্তি, আমি সবসময় সম্মান করে কথা বলি উনাকে। উনাকে অনেকসময় টেলিফোনও করি। কালকে আমি কুষ্টিয়া গেলাম, উনি এখানে এসে একথা বললেন। এটাতো যুক্তিযুক্ত কথা হলো না। একটা ঘটনা ঘটেছে, পূর্বাপর না জেনে কয়েকজনকে নিয়ে একথা বললেন। উনি এতবড় জ্ঞানী পণ্ডিত হয়ে এটা কিভাবে বললেন? আমি দুঃখিত ও মর্মাহত হয়েছি।”


আরও পড়ুন: শুক্রবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসবেন বুয়েট ভিসি


খুনের ঘটনায় নিজের ব্যর্থতা আছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, “না আমার ব্যর্থতা কী করে হবে?   আমি চেষ্টার কোনও ত্রুটি করিনি। আমি তো আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি আগেই। ডিএসডব্লিউ (ছাত্র কল্যাণ পরিচালক) চেঞ্জ করলাম।”

ভবিষ্যতে যেন এধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য কী ধরনের ব্যবস্থার কথা ভাবছেন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাকে এখন কড়া ডিএসডব্লিউ নিয়োগ দিতে হবে। এই কাজটাতো কেউই করতে চায় না। তদন্ত কমিটি যেটা করলাম, করে শেষ করিনি ই-মেইলে বলছে এই দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। কাকে দিলে চলবে কাকে দিলে চলবে না আমাকে খুঁজতে হয়। এসব করতে করতে মাথার চুল আর থাকে না।’

ছাত্ররা যে সাত দফা দাবি জানিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম দাবি বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে যারা হত্যা করেছে বলে অভিযুক্ত তাদেরকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ফৌজদারি বিচারের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই, কোর্টের মাধ্যমে বিচার হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিযুক্ত ছাত্র বহিষ্কার করার যে বিষয়টা সেটা তো আপনার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। 

এদাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য হিসেবে আপনি কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন জানতে চাইলে ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, “যেকোনও জিনিসের প্রসিডিওর আছে। আমাদের নিয়ম তদন্ত কমিটি । সেদিন সাথে সাথেই তদন্ত কমিটি হয়েছে এবং অবশ্যই এদের বের করে দেওয়া হবে। অপরাধীকে কিভাবে রাখবো? লিগ্যাল প্রসিডিওর ফলো করতে হয়। সেটি যদি আমরা না করি, এর আগেও কিন্তু কোর্টে গিয়ে আমাদের হাঁটতে হয়েছে।”

এই তদন্ত কমিটি কয়দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১০দিনের মধ্যে। আমাদের একটা স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওর আছে।’


আরও পড়ুন: শুক্রবারের মধ্যে ভিসি জবাব না দিলে বুয়েটে ঝুলবে তালা


আবরারের ডেডবডি ক্যাম্পাসে আনার কথা তাকে কেউ জানায়নি দাবি করে সাক্ষাৎকারে উপাচার্য বলেন, “আমি জানি ডেডবডি নিয়ে গেছে। সেদিন কেওয়াটিক পরিস্থিতিতে কোথাকার খবর কোথায় দেওয়ার মতো লোকও নেই।”

বেশ কয়েকজন শিক্ষক জানাজায় অংশ নিয়েছেন আপনি তা জানতেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখানে ডেডবডি এসেছে এই খবর আমাকে কেউ বলেনি। এরমধ্যে আমি আবার গিয়েছিলাম মাননীয় মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে।”


আরও পড়ুন: আবরারের গ্রামের বাড়িতে তোপের মুখে বুয়েট ভিসি