• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

আবরারের মা: আর কোনো ছেলে হারাতে চাই না

  • প্রকাশিত ০৭:০১ রাত অক্টোবর ১১, ২০১৯
আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া বেগম
আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া বেগম। ইউএনবি

'আমার এক ছেলে নেই, এখন সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের ছেলেরা আমার ছেলে। ওদের ওপর যেন কোনো অত্যাচার না হয়'

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া বেগম বলেছেন, "আমি এক ছেলেকে হারিয়েছি, আর কোনো ছেলেকে হারাতে চাই না।" বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "আমরা ছেলের জন্য সব ছেলেরা রাজপথে নেমেছে। আমি চাই না আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক খালি হয়। আমার এক ছেলে নেই, এখন সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের ছেলেরা আমার ছেলে। ওদের ওপর যেন কোনো অত্যাচার না হয়। আমি ওদের নিরাপত্তা চাই।"

"আমার ছেলেকে যারা মেরেছে তাদের আমি শাস্তি চাই, তাদের বুয়েট থেকে বহিষ্কার চাই। আমার বড় ছেলেকে সবচেয়ে বড় ডিগ্রি নিতে ওখানে পাঠিয়েছিলাম। সেই স্বপ্ন আমার পূরণ হল না। আমার সেই স্বপ্ন যেন ছোট ছেলেকে দিয়ে পূরণ করতে পারি দেশবাসী সবার কাছে আমি এই দোয়া চাই", যোগ করেন তিনি।

আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ জানান, তার প্রিয় সন্তানকে যারা বাঁচতে দেয়নি তাদের কঠিন পরিণতি দেখে কবরে যেতে চান তিনি। দ্রুত চার্জশিটের পাশাপাশি দেশব্যাপী চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের আওতায় নিয়ে আসারও দাবি জানান তিনি।

এদিকে আবরার হত্যাকাণ্ডের পর রাজপথে নেমে টানা পঞ্চম দিনের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করছে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। সহপাঠী হত্যার দ্রুত বিচারসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে অনড় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এছাড়া আবরার হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে মানববন্ধন ও সমাবেশ করছে।

উল্লেখ্য, বুয়েটের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে রবিবার রাত ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে বুয়েটের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. মাসুক এলাহি তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে আবরারকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে মারধর করেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী।