• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

আবরার হত্যাকাণ্ডে ছেলে জড়িত বিশ্বাসই করতে পারছেন না রাসেলের বাবা

  • প্রকাশিত ০৯:৫৯ রাত অক্টোবর ১১, ২০১৯
মেহেদী হাসান রাসেল
মেহেদী হাসান রাসেলের বাড়ি। ইনসেটে রাসেল। ঢাকা ট্রিবিউন

আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি করেছেন আসামি রাসেলের পিতা রুহুল আমিন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মতো এমন বীভৎস ঘটনায় তাদের ছেলে জড়িত থাকতে পারে তা বিশ্বাসই করতে পারছেন এই মামলার আসামি মেহেদী হাসান রাসেলের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রুহুল আমিন।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামে নিজের বাড়িতে এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে এই কথা বলেন তিনি।

ঢাকা ট্রিবিউনকে রুহুল আমিন বলেন, "সামান্য বেতনের চাকরি করে ছেলেকে বুয়েটে ভর্তি করাতে পেরে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করতাম। কিন্তু মাঝপথে ছেলে এমন ঘটনায় জড়াবে, কখনও ভাবিনি। ছেলে এমন নৃশংস ও বীভৎস হত্যার ঘটনায় জড়িত এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না।"

এরপর কিছুটা থেমে গভীর বিষাদে ধরে আসা গলায় তিনি বলেন, "আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।"

রাসেলের মা ঝর্ণা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, "আমার ছেলে কাউকে হত্যা করার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এটা আমি বিশ্বাস করতে পারি না। আমার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার।"


আরও পড়ুন : আবরার হত্যার সঠিক বিচার চান আসামি সকালের বাবা


জানা যায়, রুহুল আমিন ও ঝর্ণা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে মেহেদী হাসান রাসেল সবার বড়। তার ছোট বোন জান্নাতি মীম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। আর এক বোন গ্রামের বাড়িতে স্থানীয় এক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণি এবং ছোট ভাই ৭ম শ্রেণির ছাত্র।

রুহুল আমিন জানান, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন। তার চাকরির সুবাদে ছেলে রাসেল দেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে লেখাপড়া করেছে। সে রংপুরের একটি স্কুল থেকে এসএসসি ও ময়মনসিংহের একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায়ই সে জিপিএ-৫ পায়। ২০১৩ সালে বুয়েটে ভর্তি হয় রাসেল।

স্থানীয়রা জানান, মেহেদী হাসান রাসেলকে মেধাবী ও শান্তশিষ্ট একজন হিসেবেই জানতেন এলাকার লোকজন। সোনাপুর ইউপি সদস্য মো. নান্নু মাতুব্বর বলেন, "রাসেল এলাকায় কম আসতো, পড়ালেখা নিয়ে বেশি ব্যস্ত ছিল। মাঝে মধ্যে এলেও মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতো না।"

ইউপি চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান বাবুল বলেন, "গ্রামে অনেক সময় মারামারি হয়। এসবে রাসেলের পরিবারের কারও সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ নেই। আসলে এই পরিবার বেশিরভাগ সময় এলাকার বাইরে ছিল। গ্রামে রাসেল ও তার বাবা রুহুল আমিনের সুনাম রয়েছে। কেউ তাদের খারাপ বলতে পারবে না। তবে কেন বা কী কারণে এমন ঘটনার সঙ্গে সে জড়ালো ভেবে পাই না।"

এদিকে সালথা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান জুয়েল বলেন, "গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কোনও কমিটিতে কাউকে পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার এলাকার স্থানীয় কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়। কিন্তু রাসেলের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। আর ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, রাসেলের পরিবার বিএনপির সমর্থক। তবে কখনও রাসেলের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি।"

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে। ওইদিন রাত তিনটার দিকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। আবরারকে হত্যার ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ৭ অক্টোবর রাজধানীর লালবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।