• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

এজাহারভুক্ত আসামিদের স্থায়ী বহিষ্কার চায় আবরারের পরিবার

  • প্রকাশিত ০৬:৪৭ সন্ধ্যা অক্টোবর ১২, ২০১৯
আবরার হত্যা
এখনও শোকের ধাক্কা কাটাতে পারেননি নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া বেগম। ফাইল ছবি ঢাকা ট্রিবিউন

'আমাদের ছেলে চলে গেছে আমরা এর বিচার চাই'

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার দাবি করেছেন আবরার ফাহাদ রাব্বির পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (১২ অক্টোবর) নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারের পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের এই কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠকে বুয়েটের উপাচার্য ড. সাইফুল ইসলাম চাঞ্চল্যকর এই মামলার আসামিদের সাময়িকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে, এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেননি আবরারের পরিবারের সদস্যরা।

আবরারের চাচা মিজানুর রহমান বলেন, "এজাহারভুক্ত বুয়েটের ১৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। আমরা তাদের সাময়িক বহিস্কার চাই না। তাদের স্থায়ী বহিস্কার করা হোক। তাছাড়া এজাহারভুক্ত আসামীদের বাইরে আরও যে তিন ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা চাই তাদেরকেও বহিস্কার করা হোক। আমরা চাই দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে আবরার হত্যা মামলার বিচারকার্য পরিচালিত হোক।"   

"আবরার আমাদের সবার গর্ব। তার মৃত্যুর পাচঁদিন পরেও এখনো বিভিন্ন স্থান থেকে তার কবর জেয়ারত করতে আসছেন। আমাদের পরিবাকে সমবেদনা জানাতে আসছেন।", যোগ করেন তিনি।

আবরারের আরেক চাচা আমিরুল ইসলাম বলেন, বুয়েটে কর্তৃপক্ষ আবরার হত্যা মামলার খরচ বহন করতে চেয়েছেন। কিন্তু আমরা মামলা পরিচালনার খরচ চাই না। ইতোমধ্যে অনেক আইনজীবী আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন বিনা খরচে মামলা পরিচালনার জন্য। তাছাড়া এখনো মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবিরাই লড়ছেন। অতএব, আমরা তাদের কাছ থেকে কোনও খরচ চাই না। আমাদের ছেলে চলে গেছে আমরা এর বিচার চাই।"

"আমরা চাই হলে হলে র‌্যাগিং বন্ধ হোক। র‌্যাগিং এর কারণে আর যেন কোন ছাত্রের অকালে প্রাণ হারাতে না হয়", যোগ করেন তিনি। 

এসময়য় কান্নাজড়িত কন্ঠে আবরারের চাচা আমিরুল ইসলাম বলে ওঠেন, "উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বিদেশ যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো আবরারের। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।"

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর দিবাগত রাত ৩ টার দিকে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্।