• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২৫ বিকেল

মুক্তিযোদ্ধা বাবার কবরের ওপর ছেলের বাথরুম নির্মাণের চেষ্টা!

  • প্রকাশিত ০৮:২৩ রাত অক্টোবর ১৩, ২০১৯
কবর
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তারের কবরের ওপর বাথরুম নির্মাণের চেষ্টা করেছেন বলে তার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

কাস্টমস ইন্সপেক্টর আবদুর রউফ খান জানান, তিনি তার বাবার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাননি। এছাড়া জায়গাটা পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তারের কবরের ওপর বাথরুম নির্মাণের চেষ্টা করেছেন বলে তার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনায় কবরের ওপর তোলা প্রাচীর ভেঙে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন ও মুক্তিযোদ্ধারা। 

তবে বাবার কবর দখল করে বাথরুম নির্মাণ করা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন তার ছেলে বগুড়ায় কর্মরত কাস্টমস ইন্সপেক্টর আবদুর রউফ খান। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাজাহানপুর উপজেলার বারুনিঘাট এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার ২০১৭ সালে মারা যান। মৃত্যুর পর তার কবর বাদে ১২ শতক জমি দুই ছেলে ও দুই মেয়ে ভাগ করে নেন। 

মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তারের বড় ছেলে স্থানীয় কাবাষট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আসাদ খান মুনির অভিযোগ করেন, তার বাবার মৃত্যুর দুই বছর পার না হতেই ছোট ভাই আবদুর রউফ খান কবর দখল করেন। সেখানে তিনি সেখানে বাথরুম নির্মাণ করছেন। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। 

আসাদ খান আরও জানান, বাবার কবর রক্ষায় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা চান। পরে তার বাবার সহযোদ্ধারা ঘটনাটি দেখে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান। আজ বিকেলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও লোকজন এসে কবরের ওপর তোলা প্রাচীর ভেঙ্গে দেন। 

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী জানান, একজন মুক্তিযোদ্ধার কবর সংরক্ষণের পরিবর্তে তারই জায়গায় তার কবর দখলের চেষ্টা খুবই ঘৃণিত কাজ। 

এ বিষয়ে বগুড়ায় কর্মরত কাস্টমস ইন্সপেক্টর আবদুর রউফ খান জানান, তিনি তার বাবার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাননি। এছাড়া জায়গাটা পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন।

আবদুর রউফ খান দাবি করেন, বাবার কবর দখল করে তিনি কিছু করছেন না। মুরুব্বি ও মুক্তিযোদ্ধারা এসে সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। তার বাবার কবর আগের মতই আছে।

এ বিষয়ে ইউএনও মোসা. ফুয়ারা খাতুন জানান, একজন মুক্তিযোদ্ধা তাকে এ বিষয়ে ফোনে জানিয়েছিলেন। পরে তিনি মুক্তিযোদ্ধার কবরের ওপর নির্মাণাধীন স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন।