• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

পদত্যাগ করলেন গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআর বিভাগের চেয়ারম্যান

  • প্রকাশিত ০৮:২৯ রাত অক্টোবর ১৩, ২০১৯
অবস্থান কর্মসূচি
আইআর বিভাগের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বৈরাচারী আচরণ এবং অনৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের নম্বর কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে রবিবার সকাল থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ঢাকা ট্রিবিউন

আইআর বিভাগের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বৈরাচারী আচরণ এবং অনৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের নম্বর কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে রবিবার সকাল থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন খোন্দকার মাহমুদ পারভেজ।

রবিবার (১৩ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় তিনি পদত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. নুরউদ্দিন আহমেদ। তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "আইআর বিভাগের চেয়ারম্যান  খোন্দকার মাহমুদ পারভেজ পদত্যাগ করেছেন। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তার পদত্যাগপত্র ভিসি বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হবে।"

এর আগেীআইআর বিভাগের শিক্ষার্থীরা রবিবার সকাল থেকে চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করেন। খোন্দকার মাহমুদ পারভেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া, শিক্ষার্থীদের সাথে স্বৈরাচারী আচরণ এবং অনৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের নম্বর কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্লাস বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, খোন্দকার মাহমুদ পারভেজ ২০১৭ সালে প্রথমে সেকশন অফিসার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। পরবর্তীতে অনার্স ও মাস্টার্সে দ্বিতীয় শ্রেণি থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ পান। মাত্র দেড় বছরেই সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, মাহমুদ পারভেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের আপন ভাতিজা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, প্রথমদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করলেও চেয়ারম্যান হওয়ার পর স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন মাহমুদ। কথায় কথায় তিনি শিক্ষাজীবন নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দিতেন শিক্ষার্থীদের।


আরও পড়ুন : ভিসির ভাতিজা বলে কথা! 


আইআর ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াস্তি আহমেদ হৃদয়  বলেন, "তিনি সম্প্রতি একটি কোর্সের অ্যাসাইনমেন্টে ৩৪ জনকে শূন্য দিয়েছেন। আমরা যখন কারণ জানতে চেয়েছি তিনি বলেছেন তার ইচ্ছে হয়েছে তাই শূন্য দিয়েছেন।"

৩য় বর্ষের  শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তফা  বলেন, "তিনি ভিসির ভাতিজা হিসেবে অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। ক্লাসেও ঠিকভাবে পড়াতে পারেন না। উইকিপিডিয়া দেখে দেখে বানান করে পড়ান।"

পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ লিখিতভাবে জমা দিতে বলেন। আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। এর প্রেক্ষিতে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে ৩ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খোন্দকার মাহমুদ পারভেজ বলেন, "অনার্স ও মাস্টার্সে দ্বিতীয় শ্রেণি রয়েছে এ কথা সত্যি। কিন্তু আমার নিয়োগ অবৈধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি চলমান থাকায় ও রবীন্দ্র জার্নালে চারটি প্রকাশনা থাকায় যোগ্য প্রার্থী হিসেবেও আমাকে বিবেচনা করা হয়।"