• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪২ সন্ধ্যা

‘ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ নয়, অপব্যবহার বন্ধ করুন’

  • প্রকাশিত ০৭:৩০ রাত অক্টোবর ১৪, ২০১৯
সুজন
সোমবার বিকেলে ফেনীতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর গোলটেবিল বৈঠক ঢাকা ট্রিবিউন

'সারাদেশে ছোট বড় অনেক ‘সম্রাট’ তৈরি হয়েছে। শুধু আওয়ামী লীগেই নয়, সব দলেই এমন সম্রাট রয়েছে'

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ নয় বরং অপব্যবহার বন্ধ করুন। রাজনীতি করা ছাত্রদের সাংবিধানিক অধিকার। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে ছোট বড় অনেক ‘সম্রাট’ তৈরি হয়েছে। শুধু আওয়ামী লীগেই নয়, সব দলেই এমন সম্রাট রয়েছে। তাদেরকে প্রতিহত করতে প্রয়োজন সব দলের রাজনৈতিক ঐক্যমত। 

সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে সুজন ফেনী জেলা কমিটির আয়োজনে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নাগরিক ভাবনা শীর্ষক’ গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলটেবিল বৈঠকে ড. বদিউল আলম আরও বলেন,  দেশে এখন দুর্বৃত্তায়ন চলছে। এ অবস্থার নিরসনে সব দলের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা থাকলে এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সম্রাটদের সরকার নয়- জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতি করা ছাত্রদের সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার খর্ব করা উচিত নয়। তবে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

সুজন ফেনীর সভাপতি অ্যাডভোকেট লক্ষণ চন্দ্র বণিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন- সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ফেনী ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর তায়বুল হক, শিক্ষক প্রফেসর রফিকুর রহমান ভূঁইয়া, ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল কান্তি পাল, ফেনী ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের নির্বাহী সচিব ডা. এ.এস.এম তবারক উল্যাহ চৌধুরী বায়েজীদ প্রমুখ। 

আলোচনায় অংশ নেন ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুল মোতালেব, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার নজরুল ইসলাম, জাসদ সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার নুরুল ইসলাম, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক মহিবুল হক চৌধুরী রাসেল, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মানিক লাল দাস প্রমুখ।

গোলটেবিল বৈঠকে দেশে রাজনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে ২০টি প্রস্তাব উত্থাপন করে সুজন। প্রস্তাবগুলো হলো- রাজনৈতিক সাংস্কৃতিতে পরিবর্তন, নির্বাচনী সংস্কার, কার্যকর জাতীয় সংসদ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, সাংবিধানিক সংস্কার, গঠনতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল,স্বাধীন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, দূর্ণীতি বিরোদী সর্বাত্বক অভিযান, যথাযথ প্রশাসনিক সংস্কার, বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংরক্ষন, একটি নতুন সামাজিক চুক্তি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়ন।