• বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩০ রাত

ইরানি রাষ্ট্রদূত: বাংলাদেশের মানুষ সিনায় সিনায় ফারসিকে সংরক্ষণ করে

  • প্রকাশিত ১০:৩৫ রাত অক্টোবর ১৪, ২০১৯
ইরান
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা নাফার (ডানে)। সংগৃহীত

বাংলার ব্যাপারে কবি হাফিজের বিশেষ ভালোবাসা ছিল। সেই ভালোবাসা থেকেই প্রায় ৭০০ বছর আগে ভারতবর্ষে তিনি মিষ্টিখণ্ড প্রেরণ করেছিলেন। সেই মিষ্টিখণ্ড পেয়ে উপমহাদেশের অনেক মানুষ মিষ্টি মানুষে পরিণত হয়েছেন। সেই মিষ্টিখণ্ডের রঙ কখনই হারিয়ে যায়নি

বাংলাদেশের মানুষ সিনায় সিনায় ফারসিকে সংরক্ষণ করে বলে মন্তব্য করেছেনবাংলাদেশে অবস্থিত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা নাফার। 

বিশ্বখ্যাত ইরানি কবি হাফিজ শিরাজির স্মরণে সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। 

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা নাফার বলেন, “বাংলার ব্যাপারে কবি হাফিজের বিশেষ ভালোবাসা ছিল। সেই ভালোবাসা থেকেই প্রায় ৭০০ বছর আগে ভারতবর্ষে তিনি মিষ্টিখণ্ড প্রেরণ করেছিলেন। সেই মিষ্টিখণ্ড পেয়ে উপমহাদেশের অনেক মানুষ মিষ্টি মানুষে পরিণত হয়েছেন। সেই মিষ্টিখণ্ডের রঙ কখনই হারিয়ে যায়নি। আমরা গর্ববোধ করছি যে, বাংলাদেশের অনেক মানুষের সাথে ফারসিদের সম্পর্ক রয়েছে, তারা সিনায় সিনায় ফারসিকে সংরক্ষণ করেছেন। আনন্দের বিষয় যে, ইরান ও  বাংলাদেশ দুই দেশের মানুষ পাশাপাশি বসেছেন এবং হাফিজের ব্যাপারে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন।”

তিনি বলেন, “আমরা গর্ববোধ করি আরো একটি কারণে যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২০০০ ছাত্রছাত্রী ফারসি ভাষায় শিক্ষালাভ করছেন।”

রাষ্ট্রদূত বলেন,  “হাফিজ একজন আরেফ ছিলেন একজন আশেক ছিলেন। তিনি যে হাফিজ হয়েছিলেন তার পেছনে কিছু রহস্য ছিল। হাফিজ কোরআনকে হেফজ করেছিলেন। পবিত্র কোরআনের আয়াতে বলা হয়েছে, কোনো পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া একে কেউ স্পর্শ করতে পারে না। হাফিজ ছিলেন তেমন পবিত্র ব্যক্তি।”

তিনি বলেন, “আরেকটি রহস্য ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তার পরিবার তথা আহলে বাইতের সাথে সম্পর্ক। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও আহলে বাইতের প্রেমিক। হাফিজের মতো এত পাণ্ডিত্যপূর্ণ মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি ছিলেন পরিপূর্ণ মানুষ। বিশ্বের সকল মানুষ হাফিজকে ভালোবাসে।”

কবি হাফিজের কবি হয়ে ওঠা প্রসঙ্গে ইরানি রাষ্ট্রদূত জানান, “হাফিজ একজন আরেফ ছিলেন একজন আশেক ছিলেন। তিনি যে হাফিজ হয়েছিলেন তার পেছনে কিছু রহস্য ছিল। হাফিজ কোরআনকে হেফজ করেছিলেন। পবিত্র কোরআনের আয়াতে বলা হয়েছে, কোন পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া একে কেউ স্পর্শ করতে পারে না। হাফিজ ছিলেন তেমন পবিত্র ব্যক্তি।”

মোহাম্মদ রেজা নাফার বলেন, “আরেকটি রহস্য ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তার পরিবার তথা আহলে বাইতের সাথে সম্পর্ক। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও আহলে বাইতের প্রেমিক। হাফিজের মতো এত পাণ্ডিত্যপূর্ণ মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি ছিলেন পরিপূর্ণ মানুষ। বিশ্বের সকল মানুষ হাফিজকে ভালোবাসে।”

আলোচনা শেষে কবি হাফিজের রচিত গজল পরিবেশন করেন শিল্পীরা। ছবি: সংগৃহীত

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ইরানি ভিজিটিং প্রফেসর ড. কাযেম কাহদুয়ী বলেন, “আমরা ফারসি ভাষাভাষীরা এ কারণে গর্ববোধ করি যে, হাফিজ, সাদী, রুমির মতো মহাকবিরা আামদের মধ্যে এসেছিলেন। আমরা সরাসরি তাদের কবিতার রস আস্বাদন করতে পারি। তিনি ছিলেন এমন একজন কবি যার কবিতার বই ইরানের প্রায় প্রতিটি ঘরে পবিত্র কোরআনের পাশাপাশি রাখা হয়। হাফিজ ১৪টি রেওয়ায়াত থেকে কোরআনকে হেফজ করেছিলেন। তিনি তার কবিতার বার বার কোরআনকে ব্যবহার করেছেন। যে গুপ্তধন তিনি ব্যবহার করেছেন তা হলো রাত বা ভোরের সময়ে দোয়া করা। এ জন্য হাফিজকে জানতে কোরআন, হাদিস ও ইরানের পৌরাণিক কাহিনী সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকতে হবে।”

কাহদুয়ী আরো বলেন, “খাইয়্যামের কবিতার সাথে হাফিজের কবিতার মিল পাওয়া যায়। ফেরদৌসি সম্পর্কেও তিনি অনেক কিছু বলেছেন।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক আজাদ রহমান বলেন, “হাফিজের জন্ম ১৩১৫ সালে। আর তিনি ইন্তেকাল করেন ১৩৯০ সালে। অর্থাৎ প্রায় ৭০০ বছর ধরে তার রচনা আমাদের মধ্যে রয়েছে। তিনি অসাধারণ গজল রচনা করেছেন। সাদীর হাত ধরে গজল এসেছে। আর হাফিজ প্রচুর মিষ্টি গজল রচনা করেছেন। গজল সংগীতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের গজলের ব্যাপক প্রভাব ছিল। কিন্তু বর্তমানে গজল রেওয়াজ কম হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “কেবল বাংলা বা উপমহাদেশের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্য হাফিজের প্রয়োজন। তিনি প্রেমের বাণী শুনিয়েছেন। প্রেমই স্নেহ, প্রেমই মমতা, প্রেমই মানবতা। মহান আল্লাহ ভালোবাসার কারণে আমাদের সৃষ্টি করেছেন। ভালোবাসা ছাড়া মানুষ পশুতে পরিণত হয়।”

যদি ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হাফিযের গজলের ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় তাহলে আজাদ রহমান এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে সবসময় প্রস্তুত আছেন বলেও জানান।

আলোচনা শেষে গজলশিল্পীদের সাথে সুরের মূর্ছনায় মঞ্চ মাতান বিশিষ্ট বংশীবাদক আরিফুর রহমান। এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি সাহিত্য ও সংগীত অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।