• সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৭ রাত

বাংলাদেশি সংযোগে কড়াকড়ি, মিয়ানমারের সিমকার্ড ব্যবহার করছে রোহিঙ্গারা

  • প্রকাশিত ০৮:২৮ রাত অক্টোবর ১৫, ২০১৯
রোহিঙ্গা ক্যাম্প
টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ফাইল ছবি/সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মিয়ানমারের এমপিটি মোবাইলের বিস্তর নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য রোহিঙ্গাদের মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট ব্যবহারে কোনো সমস্যা হচ্ছে না

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল এবং ফোরজি ও থ্রিজি সেবা বন্ধ থাকায় মিয়ানমারের মোবাইল অপরাটের ‘এমপিটি’ সিমের প্রতি ঝুঁকছে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা। মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে আসা এসব ‘এমপিটি’ সিম এখন দেদারছে বিক্রি হচ্ছে ক্যাম্পগুলোতে। এই সুযোগে মিয়ানমারের ওই মোবাইল কোম্পানি নেটওয়ার্কের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। এতে এমপিটি কোম্পানির মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে পুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্প।

সম্প্রতি উখিয়া ও টেকনাফে আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে কয়েকটি এমপিটিসিম চালানসহ বেশ কিছু রোহিঙ্গা ধরা পড়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন থেকে এসব সিম নিয়ে ক্যাম্পে প্রবেশের সময় তাদের আটক করে আইনশৃংখলা বাহিনী। আটককৃতরা পুলিশকে জানায়, রাখাইনে এমপিটি সিমের দাম খুব সহজলভ্য। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উক্ত কোম্পানির নেটওয়ার্ক থাকায় এসব সিমের চাহিদা বাড়ছে। এজন্য তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চোরাইপথে নিয়ে আসছে এমপিটি সিম।

গত ২ সেপ্টেম্বরে অপারেটরদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন  ‘বিটিআরসি’ বিকেল ৫টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকাগুলোতে থ্রিজি ও ফোরজি সেবা বন্ধ করে দেয়। একইভাবে দিনের বেলায়ও সারাদিন মোবাইল নেটওয়ার্ক অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় থাকে। এ কারণে উখিয়া ও টেকনাফে বসবাসরত স্থানীয় বাংলাদেশিরা বেকায়দায় পড়লেও রোহিঙ্গারা রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। 

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোহাম্মদ ইউনুছ আরমান জানান, চোরাইপথে সীমান্ত পার হয়ে এমপিটি সিম আসছে ক্যাম্পগুলোতে। তবে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এমপিটি মোবাইলের নেটওয়ার্ক দুর্বল হলেও উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তর নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য রোহিঙ্গাদের মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট ব্যবহারে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা লালু মাঝি বলেন, ক্যাম্পে ৭০-১০০ টাকার মধ্যে এমপিটি সিম পাওয়া যাচ্ছে। ক্যাম্পে অবস্থানরত মোবাইলের দোকানগুলোতে হাত বাড়ালেই এমপিটি সিম পাওয়া যায়। এই সিম বাংলাদেশি মোবাইল কোম্পানির সিম থেকেও সহজলভ্য। 

উখিয়ার টিএন্ডটি টাওয়ার সংলগ্ন ৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, আমি যতটুকু জেনেছি, বাংলাদেশে মোবাইল কোম্পানি থ্রিজি ও ফোরজি বন্ধ করে দেওয়ার খবরে রাখাইনে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি তাদের নেটওয়ার্কের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। উখিয়া ও টেকনাফের অধিকাংশ এলাকায় যাতে এমপিটি সিমের নেটওয়ার্ক মেলে সে জন্য উক্ত কোম্পানি কাজ করে চলেছে। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অনেক রোহিঙ্গা এমপিটি সিম ব্যবহার করতে দেখেছি।


আরো পড়ুন - মিয়ানমারের দুই শতাধিক সিমকার্ডসহ তিন রোহিঙ্গা যুবক আটক


টেকনাফ জাদিমোরা শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আমান উল্লাহ বলেন, প্রতিদিনই সীমান্ত দিয়ে এমপিটি সীম ঢুকছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। পুলিশের ভয়ে সপ্তাহ খানেক বন্ধ থাকলেও কিছু কিছু রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে এসব সিম সংগ্রহ করে ক্যাম্পে এনে বিক্রি করছে।  

উখিয়ার কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, “উখিয়া ষ্টেশনে সামান্য মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলেও কুতুপালং বাজারে কোনো ধরনের মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। এ কারণে, স্থানীয়রা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও নেটওয়ার্ক নির্ভর সাধারণ মানুষেরা অনেকটা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। অথচ রোহিঙ্গারা ঠিকই মোবাইল ব্যবহার করছে। মিয়ানমারের এমপিটি সিম দিয়ে রাত-দিন ইন্টারনেট চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝখানে স্থানীয়রা পড়েছে বিড়ম্বনায়।”

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল মনসুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সম্প্রতি মিয়ানমারের ২৩০টি এমপিটি সিমসহ মোহাম্মদ করিম নামের এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়েছে। একইভাবে টেকনাফ থানা পুলিশও ২২২টি এমপিটি সিমসহ তিন রোহিঙ্গাকে আটক করে। আমরা আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী যতটুকু জেনেছি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উক্ত মোবাইল কোম্পানির নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চোরাইপথে রোহিঙ্গারা সিম নিয়ে আসছে বাংলাদেশে। কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করায় বেশি লাভের আশায় তারা এই কাজে আগ্রহী হয়ে উঠছে। অবশ্য, এ বিষয়ে পুলিশ সতর্ক এবং এমপিটি সিম ব্যবহার রোধে কাজ করছে পুলিশ।”

জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এমপিটি সিম ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই এবং এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। এই ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত আমরা তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। একইভাবে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত মানুষের যোগাযোগের বিলম্বের কথা চিন্তা করে উখিয়া ও টেকনাফে মোবাইল নেটওয়ার্ক শিথিল করার চেষ্টা রয়েছে। এ জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ‘বিটিআরসি’র একটি প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে গেছেন। আগামীতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল নেটওয়ার্কের বিষয়টি শিথিল করার সিদ্ধান্ত মুলতঃ তারাই নিতে পারেন।”

52
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail