• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

কক্সবাজারে অনুমতি না নিয়েই শতাধিক সরকারি গাছ কাটলেন প্রত্যাবাসন কমিশনার!

  • প্রকাশিত ০৯:৪৯ রাত অক্টোবর ১৫, ২০১৯
কক্সবাজার গাছ
বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলা হয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের আঙিনার শতাধিক গাছ ঢাকা ট্রিবিউন

প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেন, ভবনে সূর্যের আলো পড়তো না। তাই কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আরও কিছু গাছ কাটা হবে। প্রয়োজনে সেখানে নতুন গাছ লাগানো হবে

সৌন্দর্য বর্ধনের নামে শতাধিক গাছ কেটেছে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছ কার্যালয় চত্বরের শোভাবর্ধনের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে আসছিল। গাছগুলো কেটে ফেলায় স্থানীয় পরিবেশ আন্দোলন কর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে,  গাছগুলো কেটে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করেছেন সদ্য যোগ দেওয়া শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার। মূলত তারই ইশারায় গাছগুলো কাটা হয়েছে। 

কক্সবাজার পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘‘সদ্য যোগ দেওয়া প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার হঠাৎ করেই পুরনো এসব গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছেন। যা কক্সবাজার শহরের পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে।”

তিনি বলেন, “বড় বড় গাছের জন্য শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় চত্বর দৃষ্টিনন্দন ছিল। পাশাপাশি সেগুলোতে অনেক পাখিরও আবাসস্থল ছিল। একজন কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনার কারণে শতাধিক গাছ নিধন করা হলো। পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডালপালা ছাঁটার নাম করে শতাধিক বৃক্ষ কেটে ফেলা হয়েছে। এজন্য কোনো দরপত্রও আহবান করা হয়নি। নেওয়া হয়নি পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র। স্থানীয় বন বিভাগও এ বিষয়ে কিছুই জানে না। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের আঙিনায় থাকা শতাধিক গাছ কেটে টুকরো করে স্তুপ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি গাছ কাটার জন্য শ্রমিকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত একজন শ্রমিক জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বড় আকারের অর্ধশত মেহগনি গাছ কাটা হয়েছে। ছোট আকারের কিছু গাছও কাটা হয়েছে। গাছের গুঁড়িগুলো কী করা হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ভবন সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে অফিসের আঙিনায় সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। 

তিনি বলেন, অফিস আঙিনায় এতো বেশি গাছ হয়েছিল যে, ভবনে সূর্যের আলো পড়তো না। তাই কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আরও কিছু গাছ কাটা হবে। প্রয়োজনে সেখানে নতুন গাছ লাগানো হবে। 

গাছ কাটা ও বিক্রির জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হয়েছে। তবে বন বিভাগ ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, নিয়মানুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি কোনো গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। বন বিভাগের কর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে মূল্য নির্ধারণ করেন। সরকারি একটি ফি নিয়ে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। 

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের আঙিনায় গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগকে জানানো হয়নি বলে জানান এই বন কর্মকর্তা।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘‘সরকারি গাছ কাটার বিষয়টি মূলত বনবিভাগ দেখাশোনা করে। এখানে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে, বৃক্ষ নিধন অপরাধ। যে-ই কাটুক না কেন এটি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।’ ’