• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৭ রাত

প্রথমবারের মতো উপজেলা নির্বাচনে জিতলেন তৃতীয়লিঙ্গের সদস্য

  • প্রকাশিত ১০:৪৫ সকাল অক্টোবর ১৬, ২০১৯
সাদিয়া আখতার পিংকি
সাদিয়া আখতার পিংকি। ছবি : সংগৃহীত

পিংকি বলেন, কোটচাঁদপুর উপজেলায় তৃতীয়লিঙ্গের সদস্যদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি

উপজেলার পরিষদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো তৃতীয়লিঙ্গের কোনো প্রার্থী জয়লাভ করলেন। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদে নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন সাদিয়া আখতার পিংকি (৩৭) নামের ওই প্রার্থী। 

সোমবার (১৪ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখান পিংকি পান ১২ হাজার ৮৮০ ভোট। 

এক সাক্ষাৎকারে পিংকি বলেন, কোটচাঁদপুর উপজেলায় তৃতীয়লিঙ্গের সদস্যদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি। ছাড়া উপজেলার উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন। তার এই প্রচেষ্টায় সবার সহযোগিতা চান পিংকি। 

পিংকি উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের নওয়াব আলীর সন্তান। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বিয়ে হয়। তবে সে সংসার বেশিদিন টেকেনি। এরপর তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি কোটচাঁদপুর যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক পদে আছেন।

নির্বাচনে জেতার পর পিংকি বলেন, "জয়ী হয়ে ভালো লাগছে। কোটচাঁদপুরের জনগণ আমার সঙ্গে আছে। তারা আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। জনগণ আমাকে তাদের আপনজন মনে করেন, কাছের লোক মনে করে আমাকে বিজয়ী করেছেন।"

রাজনীতিতে নেমে তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান সদ্য নির্বাচিত এই উপজেলার ভাইস-চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, "তিনবছর যাবৎ উপজেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক ও দোড়া ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। এলাকার গরিব, দুঃখী ও অসহায় মানুষদের পাশে থেকে তাদের উন্নয়নে কাজ করছি। কেউ অসুস্থ হলে তাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাই। গভীর রাতে কেউ বিপদে পড়লে সাহায্যের চেষ্টা করি। মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি।"

নির্বাচিত হওয়ার পর কোন কোন বিষয়ে কাজ করতে চান প্রশ্ন করা হলে সাদিয়া আক্তার পিংকি বলেন, "আমি জনগণের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। অসহায় নারীদের পাশে থাকতে চাই। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে চাই। যুব সমাজের পাশে থেকে উন্নয়নের কাজ করতে চাই। সমাজকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে চাই। আর যারা তৃতীয় লিঙ্গের আছেন, আমি চাই তারা সম্মান পাক। প্রতিটা এলাকায় প্রতিটা ক্ষেত্রে তাদের যেন সম্মান দেওয়া হয়। একাজে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করি।" 

নির্বাচনের বিষয়ে কীভাবে উদ্বুদ্ধ হলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, "গ্রামের সব নারী-পুরুষ আমাকে ভোটে দাঁড়ানোর উৎসাহ দিয়েছেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা আমার সঙ্গে ছিলেন। তাদের অনুপ্রেরণায় আমি ভোটের মাঠে নামি।"