• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

জাবিতে উপাচার্যের পক্ষে-বিপক্ষে কর্মসূচি

  • প্রকাশিত ০৪:০১ বিকেল অক্টোবর ১৬, ২০১৯
জাবি মিছিল
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে বুধবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঢাকা ট্রিবিউন

উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে ঘিরে ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালিত হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে ঘিরে ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালিত হয়েছে।  

উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে বুধবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টায় ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবন চত্ত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে মুরাদ চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 

সমাবেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান উপাচার্যের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে সেটা তদন্ত করুন। যারা জাহাঙ্গীরনগরকে বাঁচানোর জন্য সংগ্রাম করছে আপনি তাদের পক্ষ অবলম্বন করুন। আপনাকে অপমানিত করার জন্য নয়, আপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই তদন্ত কমিটি চাওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য আরেকটি পক্ষ দাঁড়িয়েছে যারা আপনার পক্ষে কথা বলছে। মূলত তারা আপনার বিরোধী। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে।”

দর্শন বিভাগের আরেক অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভুঁইয়া বলেন, “ড. ফারজানা ইসলামের এই সম্মানিত পদে থাকার আর কোনো নৈতিক অধিকার নেই। তিনি স্পষ্টভাবে দুর্নীতিতে যুক্ত। এখন নতুন করে দলভারি করে প্রমাণ করতে চাইছেন তিনি দুর্নীতিবাজ নন।”

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) জাবি শাখার সভাপতি মাহাথির মুহাম্মদ বলেন, “উপাচার্যের স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড সব সীমা লঙ্ঘন করেছে। যারা টাকা পেয়েছে তারা স্বীকার করছে কিন্তু উপাচার্য বারবার মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। আমরা তাকে আর এই পদে দেখতে চাই না।”

এর আগে উপাচার্যের অপসারণ দাবির আন্দোলনকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ ও ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল ও সংহতি সমাবেশ করেছেন উপাচার্যপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক থেকে ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে মৌন মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংহতি সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, ‘‘প্রয়োজনের তাগিদেই গণজাগরণ হয়, আজকে এখানে তাই লক্ষ করা যাচ্ছে। এই গণজাগরণ প্রমাণ করে, উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হচ্ছে তা একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।’ ’

উপাচার্যের সমর্থক আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’ এর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘‘আপনারা আসুন, দেখুন কত মানুষ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। এই সমাবেশ প্রমাণ করে আপনাদের আন্দোলন যৌক্তিক নয়।’ ’