• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের জন্য ভয়ংকর দিন আসছে

  • প্রকাশিত ১০:৪৯ রাত অক্টোবর ১৭, ২০১৯
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত তিন পার্বত্য জেলার আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ঢাকা ট্রিবিউন

'ধৈর্য্য সহকারে মোকাবেলা করছি বলেই এটা ভাববেন না যে আমাদের কোন সক্ষমতা নাই'

পাহাড়ে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের জন্য ভয়ংকর দিন আসছে বলে হুঁশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত তিন পার্বত্য জেলার আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, "পাহাড়ে অযথা যারা রক্তপাত করছে, যারা খুন-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে, তাদের জন্য ভয়ংকর দিন আসছে। যারা এসব সন্ত্রাসে মদদ দিচ্ছে তাদেরকেও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।"

পাহাড়ের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যা যা করার সবই করা হবে।"

"সন্ত্রাসে যারাই জড়িত তাদের অবশ্যই চিহ্নিত করে খুঁজে বের করা হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে কেউ রেহায় পাবে না," যোগ করেন তিনি।

স্বরাষ্টমন্ত্রী আরও বলেন, "কিছুদিন যাবৎ লক্ষ্য করছি পার্বত্য তিন জেলা অশান্ত হয়েছে উঠেছে। পার্বত্য মন্ত্রীসহ একদিন বসে সিদ্ধান্ত নিই, কি করা যায়। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম পার্বত্যাঞ্চলে গিয়ে সব স্তরের প্রতিনিধিদের সাথে বসবো। সমস্যা ও দুর্বলতাগুলো খুজে বের করবো। আমরা বুধবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর সাথে বৈঠক করেছি এবং আজকে (বৃহস্পতিবার) জনপ্রতিনিদিদের কথা শুনেছি। সবকিছু শুনে আমি আৎকে উঠলাম, তাদের বক্তব্য মতে, হঠাৎ করে পার্বত্যাঞ্চলের রক্তপাত বেড়ে গেছে। এ রক্তপাত এতই নৃশংস হচ্ছে যে  কাউকে হত্যা করা হলে তার হয়ে কেউ থানায় যেতে পারছে না পরবর্তীতে টার্গেট হওয়ার ভয়ে। স্বাক্ষী দিতেও যাচ্ছে না অস্ত্রের ভয়ে। এর থেকেও আরো ভয়াবহ হচ্ছে, সাইবার ক্রাইমও বেড়ে গেছে এখানে। তারা এখানে স্কুল করতে দিচ্ছে না, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করতে দিচ্ছে না। এসব কার স্বার্থে? মুষ্টিমেয় কয়েকজনের স্বার্থে এ অঞ্চল অন্ধকারে থাকবে এটা কারোর কাম্য নয়।"

"ধৈর্য্য সহকারে মোকাবেলা করছি বলেই এটা ভাববেন না যে আমাদের কোন সক্ষমতা নাই। আমরা সব ঘটনা জেনে গেলাম। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা চাইবো। যাতে করে এই এলাকা জনগণ যাতে শান্তির সুবাতাস পেতে পারে", যোগ করেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেসিং এর সভাপতিত্বে সভায় রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামাল উদ্দিন, র‌্যাবের মহা পরিচালক বেনজির আহম্মদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মতিউর রহমান, বিজিবির মহাপরিচালক, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, তিন পার্বত্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ ও বিজিবিসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।