• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

চারঘাট সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলিতে বিএসএফ সদস্য নিহত

  • প্রকাশিত ১০:৫৯ রাত অক্টোবর ১৭, ২০১৯
বিএসএফ
বাংলাদেশ সীমান্তে টহলরত বিএসএফ। ফাইল ছবি এএফপি

১১৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কাগমারী ক্যাম্প থেকে বিএসএফ-এর চার সদস্য অনুমতি ছাড়াই সীমান্তরেখা অতিক্রম করে স্পিড বোট নিয়ে বাংলাদেশ ভেতরে ঢুকে বিজিবি টহল দলের কাছে চলে আসে

রাজশাহীর চারঘাট সীমান্তে বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে গোলাগুলিতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক সদস্য নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে দুই বাহিনীর পতাকা বৈঠকে এক সদস্য নিহত ও আরেকজন আহত হওয়ার বিষয়ে বিজিবিকে জানিয়েছিল বিএসএফ। 

তবে তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল বিজিবি। এ ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্খিত’ আখ্যা দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বিজিবি'র পক্ষ থেকে।

এদিন রাত ৯টায় এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব বিষয় তুলে ধরেন ১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধীনে চারঘাট বিওপি থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিম দিকে ও সীমান্ত পিলার ৭৫/৩-এস থেকে ৫০০ মিটার বাংলাদেশের ভেতরে চারঘাট থানার শাহরিয়ার খাল এলাকার পদ্মা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির অভিযানে তিন ভারতীয় জেলেকে আটকের চেষ্টা করে বিজিবি। তাদের দুইজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার ছিড়াচর এলাকার বসন্ত মণ্ডলকে চার কেজি কারেন্ট জালসহ আটক করা হয়। 

ঘটনার কিছুক্ষণ পর ১১৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কাগমারী ক্যাম্প থেকে বিএসএফ-এর চার সদস্য অনুমতি ছাড়াই সীমান্তরেখা অতিক্রম করে স্পিড বোট নিয়ে বাংলাদেশ ভেতরে ঢুকে বিজিবি টহল দলের কাছে চলে আসে। আটক ভারতীয় নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানায় তারা। জবাবে বিজিবি টহল দল পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে হস্তান্তর করা হবে বলে জানায়। 

কিন্তু হঠাৎ করেই আটক ভারতীয় নাগরিককে মারধর করতে শুরু করেন বিএসএফ সদস্যরা। একপর্যায়ে তাকে বিজিবির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিজিবি সদস্যরা বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৬ থেকে ৮ রাউন্ড গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা ফাঁকা গুলি ছুড়লে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা গুলি করতে করতে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৫টা থেকে ৫ টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত চর শাহরিয়ার বাঁধ এলাকায় ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১৭ বিএসএফ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক কেএস মেহেতা পতাকা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। আর বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন লে. কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ। গুলি বিনিময়ের বিষয়ে উভয়পক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে লে. কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ বলেন, হতাহতদের পরিচয় বিজিবির কাছে জানায়নি বিএসএফ। তাদের পদবীও বলা হয়নি।

রাত ১০টার দিকে চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমিত কুমার কুন্ডু বলেন, মামলা ও ভারতীয় নাগরিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে।

ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি বলছে, এ গোলাগুলির ঘটনায় বিজিবির হেড কনস্টেবল বিজয়ভান সিংয়ের মাথায় গুলি লাগে, আর হাতে গুলি লাগে নৌকাচালকের। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান বিজয়ভান।

এদিকে, ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্খিত এক দুর্ঘটনা’ বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ ঘটনার পর দুই বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের মধ্যে যোগাযোগ চলছে বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।