• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

পিটিয়ে শ্রমিকের পা ভেঙে দিলেন ‘মদ্যপ’ যুবলীগ কর্মী!

  • প্রকাশিত ০৫:১১ সন্ধ্যা অক্টোবর ১৮, ২০১৯
আশুলিয়া
বাঁ থেকে যুবলীগ কর্মী রাজন ও রাসের। ঢাকা ট্রিবিউন

অভিযোগ রয়েছে, এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন যুবলীগ কর্মী রাজন। অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়েছে তার

ঢাকার আশুলিয়ায় মাতাল অবস্থায় রবি (৩৩) নামের এক শ্রমিককে পিটিয়ে বাম পা ভেঙ্গে হাসপাতালে পাঠিয়েছে যুবলীগ কর্মী রাজন ও তার বাহিনী। কোনো কারণ ছাড়াই তাকে পেটানো হয়েছে বলে দাবি আহত রবির। এ ঘটনায় ১০ দিন হাসপাতালে থাকার পর ওই শ্রমিক শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এর আগে গত (৮ অক্টোবর) মঙ্গলবার রাত দশটার দিকে নরসিংহপুর এলাকার হামিম গার্মেন্টেসের পাশে স্থানীয় এক সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শ্রমিক রবি জানান, তিনি আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থেকে স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তবে গত দুই মাস আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর গত কয়েকদিন যাবৎ পুনরায় চাকরির খোঁজ করছিলেন। চাকরি খোঁজার জন্য মঙ্গলবার রাতে হামিম গার্মেন্টেসের পাশের এলাকায় তার এক সহকর্মীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এ সময় স্থানীয় একটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী রাজন ভুইয়া, রাসেল, মাসুদ ওরফে পালসার মাসুদসহ বেশ কয়েজন মদ্যপ অবস্থায় মাতলামো করছিলেন। হঠাৎ করেই রাজন ভুইয়া ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী শ্রমিককে ডেকে নিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে রবি মারধরের প্রতিবাদ করলে কথিত যুবলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী তাকে পিটিয়ে তার বাম পা ভেঙ্গে দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই শ্রমিককে টাঙ্গাইলের একটি গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে জামগড়া এলাকা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশও দেন।

এদিকে শ্রমিক রবি টানা দশ দিন টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে শুক্রবার আশুলিয়া থানায় এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রাজন। অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়েছে তার। এছাড়াও প্রায় রাতে মদ খেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মাতলামি করেন তিনি।

যুবলীগ কর্মী রাজন ভুইয়ার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। এ ছাড়াও তার যুবলীগের পদ সম্পর্কে বলেন, “আমি ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী।”

ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, “রাজন যুবলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়। তবে সে সংগঠনের কোনো পদে নেই। সম্পাদক পদের প্রার্থী। রাজন যেই হোক না কেন একজন শ্রমিককের পা ভেঙে দেওয়ার অধিকার তার নেই।”

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”