• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৪ সকাল

টেলিভিশনে দায়িত্বহীন বক্তব্যের কারণেই পাবলিক প্রসিকিউটর জাহাঙ্গীরকে অব্যাহতি

  • প্রকাশিত ০৬:১৮ সন্ধ্যা অক্টোবর ১৮, ২০১৯
স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সংগৃহীত

'লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার বিষয়ে গত ১৬ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে অত্যন্ত দায়িত্বহীন বক্তব্য রাখেন তিনি'

 কর্তব্যে অবহেলা করায় ঢাকা জেলার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তবে ওই আদেশে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার বিষয়ে গত ১৬ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে অত্যন্ত দায়িত্বহীন বক্তব্য রাখেন তিনি।

সরাসরি সম্প্রচার হওয়া ওই অনুষ্ঠানে নিজ বাসভবন থেকেই অংশ নিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। সেখানে উপস্থাপক মিথিলা ফারজানা এবং প্যানেল স্পিকার হিসেবে থাকা দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনের করা প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হন তিনি।

ওই আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল- “অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের বাদী ও তার বাবা অজয় রায় কেন বক্তব্য দিতে আদালতে যাননি”, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান উপস্থাপক। একপর্যায়ে অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড কবে ঘটেছিল সে বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চান দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

উত্তরে তিনি বলেন, “এটা এক বা দেড় বছর আগের ঘটনা।”

তখন শ্যামল দত্ত বলেন, “আপনি এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, কিন্তু ঘটনা কবে ঘটেছিল সেটা আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।”

এসময় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক বলেন, “ব্লগার এবং লেখক অভিজিৎ রায়কে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি হত্যা করা হয়, চার বছর আগে।”

উত্তরে ওই আইনজীবী বলেন, “আমি আমার হলি আর্টিজান মামলা নিয়ে ব্যস্ত আছি।”

শুনে শ্যামল দত্ত বলেন, “আপনি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হয়েও বাদীর সঙ্গে দেখা করেননি।”

প্রত্যুত্তরে আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আইনে বাদীর সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।”

তখন শ্যামল দত্ত বলেন, আপনি কি বুঝতে পারছেন সরকার আপনার মতো আইনজীবী নিয়োগ করলে মামলার অবস্থা কী হতে পারে? আপনি আইনজীবী থাকলে কীভাবে এই মামলা (অভিজিৎ হত্যা মামলা) সামনে এগোবে?

অপসারণের প্রতিক্রিয়ায় জাহাঙ্গীর ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি জানি না মন্ত্রণালয় কেন আমাকে অপসারণ করেছে। আমি কীভাবে দায়িত্বে অবহেলা করলাম সেটাও জানি না। সরকার চাইলে যে কাউকে যে কোনো সময় ওই পদে বসাতে পারে। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।”

দেখুন সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও-