• বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪৪ রাত

রাবি শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত, পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ

  • প্রকাশিত ০৮:৫৯ সকাল অক্টোবর ১৯, ২০১৯
রাবি
শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করেন রাবি শিক্ষার্থীরা ঢাকা ট্রিবিউন

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ছিনতাইকারীরা বহিরাগত

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরোজ নামে এক শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। রাত সোয়া ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও আন্দোলন চলছিল।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হল-

১.ফিরোজকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে মামলা দায়ের এবং এর ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা।

২.বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের নিষিদ্ধ করা।

৩.ক্যাম্পাসের ভেতর যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনা।

৪.বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠগুলোতে বহিরাগতদের নিষিদ্ধ করা।

৫.ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে অর্থনীতি বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী ফিরোজ তার বান্ধবীকে নিয়ে স্টেডিয়ামের পাশের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। তখন কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে পাশের হবিবুর হলের মাঠে নিয়ে যায়। এসময় তাদের কাছে থাকা ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। চিৎকার করলে ফিরোজকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তারা। পরে আশেপাশের লোকজন ফিরোজকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্তদের সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ছিনতাইকারীরা বহিরাগত।

ছুরিকাঘাতের বিষয়টি জানা-জানি হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের নেতারা। পরে তাদের সাথে যোগ দেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে আন্দোলনর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের পদত্যাগ দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা । রাত সোয়া ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলতে চাইলেও শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।

এদিকে মহাসড়ক অবরোধে ফলে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় রাস্তায় আটকা পড়া যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। অনেককে হেঁটে শহরের দিকে যেতে দেখা যায়।

ভোগান্তিতে আটকাপড়া রাজশাহী জর্জ কোটের এডভোকেট মাহমুব বলছিলেন, “গ্রামের বাড়ি থেকে বালিয়া পুকুর যাচ্ছিলাম। কিন্তু আন্দোলনের কারণে রাস্তায় আটকা পড়ে আছি। সাথে আমার মেয়ে রয়েছে তাই অনেকটা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি।”

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে প্রক্টরের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।