• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৪ দুপুর

'মেয়েকে নিয়ে বিপাকে আছি, বিয়ে না দিলে মেরে ফেলবে'

  • প্রকাশিত ০৭:৩৬ রাত অক্টোবর ১৯, ২০১৯
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

মামুনের হুমকি-ধামকির মুখে ওই কিশোরী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় শিশু কন্যাকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এক নারী। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দৌড়ঝাপ করছেন তিনি। 

এঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই মা। সেখানে প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল-মামুন, তার বাবা ও মা, সহযোগী অনিক, অয়ন এবং ওই নারীর বোন নুপুর বেগমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি।

এর আগে একই বিষয় নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই নারী।

অভিযোগ সূত্র এবং ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দুই মেয়েকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহরের একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। পরে তার বড় মেয়েকে শহরের একটি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। সেখানে তার মেয়ে ২০১৮ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছিল। স্কুলে আসা যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের আলী আকবরের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন তাকে প্রায়ই উত্যক্ত করতেন। এক পর্যায়ে তিনি ওই কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় মামুন তাকে বিয়ের প্রস্তাবও দেন। কিন্তু মামুন মাদকাসক্ত হওয়া ও মেয়ের বিয়ের বয়স না হওয়ায় বিয়ে দিতে রাজি হননি ওই নারী।

মামুনের হুমকি-ধামকির মুখে ওই কিশোরী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপরও বিভিন্ন সময়ে আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতো তার মায়ের কাছে। এক পর্যায়ে অশ্লীল ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন মামুন। এরপর গত ১০ অক্টোবর মামুন তার মোবাইল ফোন থেকে ওই কিশোরীর মায়ের মোবাইল ফোনে অশ্লীল ছবি পাঠান।

এব্যাপারে থানায় অভিযোগকারী ওই মেয়ের মা বলেন, "মাদকসেবীর কাছে আমার মেয়েকে আমি বিয়ে দেবো না। এছাড়া আমার মেয়ের বিয়ের বয়সও হয়নি। কিন্তু বখাটে মামুন আমার মেয়েকে জোর করে বিয়ে করিয়ে নিতে চায়। বিয়ে না দিলে মেরে ফেলবে বলেও হুমকি দিচ্ছে।" 

তিনি আরও বলেন, "মেয়েকে নিয়ে বিপাকে আছি। মেয়ের সাথে ওই বখাটে ছেলের (মামুন) ছবি যুক্ত করে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে গিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছি না।"

"এর আগে মেয়েকে রক্ষা করার জন্যে ওই বখাটের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করি। ওই ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই বখাটে ও তার স্বজনদের ডেকে এনে সতর্ক করেন। তারা আর বাড়াবাড়ি করবে না বলে ইউএনওকে আশ্বস্ত করেন। এরপরেও ওই বখাটে আমার মেয়েকে আবার বিরক্ত করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে যাই। তখন নির্বাহী অফিসার এবিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি সদর থানার ওসিকে (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মোবাইল ফোনে এবিষয়ে বলেন।" 

এব্যাপারে অভিযুক্ত মামুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "ওই মেয়ের সাথে আমার পারিবারিকভাবে বিয়ের আলাপ চলছিল। মেয়ের পরিবার ১০ লাখ টাকা কাবিন করানোর কথা বলায় বিয়ে হয়নি।"

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, "এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে থানার একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।"