• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৪৪ দুপুর

প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধনে ৪ দেশে যাচ্ছে ইসি

  • প্রকাশিত ০৭:৫৫ রাত অক্টোবর ১৯, ২০১৯
ইসি

ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন শাখার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম বলেন, 'বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিবন্ধনে ২০২০ সালের মধ্যে ৫০টি দেশে যাবো আমরা'

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও যুক্তরাজ্য যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রবাসীদের নিবন্ধনে পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে এর আগেও কমিশন তাদের একটি দলকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা। 

গত সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতও ছিল কমিশন। কিন্তু সিঙ্গাপুর সরকারের সবুজ সংকেত না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তারা।

এদিকে সিঙ্গাপুর সরকার থেকে এখনো অনুমতি না পাওয়ায় কমিশন অন্য চারটি দেশে খুব শিগগিরই প্রতিনিধি পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন শাখার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম বলেন, "আমরা সিঙ্গাপুরে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি এবং তাদের সরকারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছি। এর মধ্যে আমরা আরও চারটি দেশে- সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও যুক্তরাজ্য যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি।"

"আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আমরা ওই চারটি দেশে যাবো" উল্লেখ করে সাইদুল ইসলাম বলেন, "বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিবন্ধনে ২০২০ সালের মধ্যে ৫০টি দেশে যাবো আমরা।"

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের থেকে অনলাইনে আবেদনপত্র নেওয়ার আগে কমিশন ওই চারটি দেশের বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র শাখার মহাপরিচালক আরও বলেন, ইসি বিশ্বের সব দেশে যাবে না। কারণ বাস্তবে প্রায় ৫০টি দেশকে কেন্দ্র করেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা রয়েছেন।

"তবে অন্য দেশে (৫০টি দেশের বাইরে) অবস্থানরত বাংলাদেশিরা পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে ভোটার হতে পারবেন, যেখানে বাংলাদেশ কমিশন তাদের ভোটার হিসাবে তালিকাভুক্ত করার জন্য ডেস্ক খুলবে," যোগ করেন তিনি।

জানা যায়, ভোটার হতে ইচ্ছুক প্রবাসীদের প্রথমে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। পরে আবেদনে দেওয়া তথ্যগুলো জাতীয় পরিচয়পত্র শাখা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে পাঠাবে, যাতে রোহিঙ্গাসহ বিদেশি নাগরিক ভোটার হতে না পারে।

যাচাই-বাছাই হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের দল ওই দেশগুলোতে আবার গিয়ে প্রবাসীদের বায়োমেট্রিক- আঙুলের ছাপ নেবে। যেখানে অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এএফআইএস) ব্যবহার করা হবে। তারপরে অনুমোদনপ্রাপ্ত ভোটারদের এনআইডি কেন্দ্রীয় সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র শাখার কর্মকর্তারা জানান, প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনের মাধ্যমে প্রবাসীদের স্মার্ট এনআইডি কার্ড সরবরাহ করা হবে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, প্রবাসীরা যে কোনো স্থান থেকে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন। পাশাপাশি, কমিশনও ফরম পূরণের ক্ষেত্রে সহায়তা দেয়ার জন্য মিশনগুলোতে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করবে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ২০১৯ (সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ১ কোটি লাখ ২৬ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮৯ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবস্থান করছেন সৌদি আরব, ইউএই, ওমান, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর, কুয়েত ও বাহরাইনে।