• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

'ভূত হয়ে ক্ষতি করতে পারে' তাই নিজ গ্রামে দাফন হয়নি পপির?

  • প্রকাশিত ০৮:৩৭ রাত অক্টোবর ১৯, ২০১৯
লাশ

জয়বান বিবি বলেন, আত্মহত্যাকারী মরার পর 'ভূত' হয়ে স্থানীয়দের ক্ষতি করতে পারে এমন ভয়ে তার ছেলের লাশ গ্রামে দাফন করা সম্ভব হয়নি 

বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়ে অপমানে আত্মহত্যা করেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের লালটেক গ্রামের শুকুর আলীর মেয়ে পপি বেগম (১৯)। আত্মহননের পর নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের কথা থাকলেও গ্রাম্য মোড়ল ও স্থানীয় কুসংস্কারের কারণে জন্মস্থানে তার দাফনের সুযোগ হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে সিলেট নগরীর মানিকপীর টিলায় লাশটি দাফন করা হয়।

সরেজমিনে জানা গেছে, আত্মহননকারী দাফনের পর 'ভূত' হয়ে স্থানীয়দের জ্বালাতন করবে এমন বিশ্বাসে পপির লাশ স্থানীয়ভাবে দাফন করা সম্ভব হয়নি। পুরো গ্রামবাসী এব্যাপারে জানলেও, মুখ খুলতে তারা সম্পূর্ণ নারাজ। 

জানা গেছে, ২০ বছর আগে ওই গ্রামের জয়বান বিবি (৭০) নামের এক নারীর ছেলে আত্মহত্যা করলে তার লাশও গ্রামে দাফন না করে পরিবারের লোকজন নগরীর মানিকপীর টিলায় দাফন করে। জয়বান বিবি বলেন, আত্মহত্যাকারী মরার পর 'ভূত' হয়ে স্থানীয়দের ক্ষতি করতে পারে এমন ভয়ে তার ছেলের লাশ গ্রামে দাফন করা সম্ভব হয়নি।

নিহত পপির ছোট বোন তাহির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী রিপা বেগম জানায়, ময়নাতদন্তের পরে তার বোনের লাশ পরিবারের লোকজন মানিকপীর টিলায় দাফন করেন। 

অন্যদিকে পপির বড় ভাই মনোয়ার হোসেন জানান, দাফন-কাফনের টাকা না থাকায় পারিবারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তার বোনকে সিলেটের মানিকপীর টিলায় দাফন করা হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আলতাব আলী বলেন, লোকমুখে পপির আত্মহত্যার খবর পেয়েছেন তিনি। তবে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে কেন পপির লাশ দাফন করা সম্ভব হয়নি সে ব্যাপারে কিছুই জানেন না। 

এব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বর্ণালী পাল বলেন, "এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আজকে আমি শুনেছি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদেরকে এখনও জানানো হয়নি। যদি দাফনের আগে জানানো হতো তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেত। তবুও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আমি বলেছি, ওই পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য।"

উল্লেখ্য, পপি বেগম গত ৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে তার বোনের বাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী চেরাগী গ্রামে গণধর্ষণের শিকার হন। পরদিন ১০ অক্টোবর সকালে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে আত্মহত্যা করে। দাফনের দুদিন পর তার ব্যবহৃত ভ্যানেটি ব্যাগে নিজ হাতে লেখা একটি চিরকুট (সুইসাইড নোট) পায় পরিবার। ওই চিরকুটে গণধর্ষণের কথা উল্লেখ করেন পপি।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা শুকুর আলী চারজনকে আসামি করে গত ১৪ অক্টোবর রাতে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই নিহতের ভগ্নিপতি ও তেতলী চেরাগী গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে ফয়জুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৫ অক্টোবর রাতে মামলার অপর আসামি একই গ্রামের মৃত মতছির আলীর ছেলে জাহেদ (২২) ও গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)। তবে মামলার অপর আসামি তেতলী চেরাগী গ্রামের আব্দুল মনাফের ছেলে বারিক মিয়া (৩৭) এখনও পলাতক রয়েছেন।