• বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:২৭ রাত

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির অভিযোগে কাউন্সিলর রাজীব গ্রেফতার

  • প্রকাশিত ০৯:১৯ সকাল অক্টোবর ২০, ২০১৯
যুবলীগ রাজীব
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৩৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে গ্রেফতার করে র‌্যাব ঢাকা ট্রিবিউন

শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার পরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আফতাব উদ্দিন সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বাসা থেকে অবৈধ অস্ত্র, মদ ও নগদ অর্থ উদ্ধার করে র‌্যাব‌

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৩৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই গা ঢাকা দেন তিনি। 

র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরোয়ার বিন কাশেম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রাজীবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নামে-বেনামে রাজধানীতে তার বেশ কয়েকটি ফ্লাট ও গাড়ি রয়েছে। এছাড়া, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

র‌্যাব জানায়, শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১১টার পরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আফতাব উদ্দিন সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বাসা থেকে অবৈধ অস্ত্র, মদ ও নগদ অর্থ উদ্ধার করে র‌্যাব‌। বন্ধুর এই বাসাতেই গত কয়েকদিন আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। গ্রেফতার রাজীব ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

রাজীবকে গ্রেফতারের বিষয়ে রাত সোয়া ১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন র‌্যাব মুখপাত্র সরোয়ার বিন কাশেম। তিনি বলেন, “রাজীবকে গ্রেফতারের সময় একটি অবৈধ পিস্তল, পাসপোর্ট, ৩৫ হাজার টাকা, বিদেশি মদের বোতল জব্দ করা হয়েছে। তার মোহাম্মদপুরের বাসা ও কার্যালয়েও অভিযান চালানো হবে।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সরোয়ার বিন কাশেম বলেন, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সঙ্গে রাজীবের গ্রেফতারের সম্পর্ক নেই।

র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়ির সপ্তম তলায় এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন রাজীব। গত রাত পৌনে নয়টার দিকে র‌্যাবের সশস্ত্র সদস্যরা বাসার সামনে অবস্থান নেন।

১০ অক্টোবর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান ওরফে মিজানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় শ্রীমঙ্গল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছিল র‌্যাব। র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক আশিক বিল্লাহ তখন জানিয়েছিলেন, জেনেভা ক্যাম্পে তার মাদকের কারবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

মিজান গ্রেফতারের পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন রাজীব। কয়েকদিন ধরেই তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি নিজ কার্যালয়েও যাচ্ছিলেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মিজান গ্রেফতার হওয়ার পর রাজীব তার দু’টি অস্ত্র থানায় জমা দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীতে ‘শুদ্ধি’ অভিযান শুরু হয়। ২২টি ক্লাব,৫টি বার, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ৮ নেতার বাসা ও প্রতিষ্ঠানে ৪৫টি অভিযান চালানো হয়। ঢাকায় ২২০ জন ও ঢাকার বাইরে ৫৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট, যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা জি কে শামীম।