• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় 'বর্বর' নির্যাতন

  • প্রকাশিত ০৫:৪২ সন্ধ্যা অক্টোবর ২০, ২০১৯
গাইবান্ধা
বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় গাইবান্ধায় সম্ভু চন্দ্র হাওলাদার নামের এক মৎস্যজীবীকে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। ছবি : সংগৃহীত

নির্যাতনের শিকার সম্ভু চন্দ্র হাওলাদার বর্তমানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন

বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় গাইবান্ধায় সম্ভু চন্দ্র হাওলাদার নামের এক মৎস্যজীবীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বেদম মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২০ অক্টোবর) এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ তিন যুবককে আটক করেছে। 

আটক তিনজন হলেন-গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শ্রীমুখ গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে রাসেল মিয়া (২৭), একই এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে মোনয়ারুল ইসলাম (২৮) ও আজাহার উদ্দিনের ছেলে অনু মিয়া (৩৫)। 

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদি হাসান জানান, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি দুর্বৃত্তদের আটকে পুলিশি অভিযান চলছে।

এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। 

এদিকে নির্যাতনের শিকার সম্ভু চন্দ্র হাওলাদার বর্তমানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

অপরদিকে এই ঘটনায় মৎস্যজীবীরা শনিবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মহিমাগঞ্জ বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশ থেকে তারা অবিলম্বে সম্ভুর ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

উল্লেখ্য, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার একাধিক সরকারি জলাশয় ইজারা দেওয়া নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি বেসরকারি একটি চ্যানেলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। সেখানে মহিমাগঞ্জ মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি সম্ভু হাওলাদার একটি সাক্ষাৎকার দেন। 

ওই সাক্ষাৎকারে সম্ভু বলেন "জাল যার জলাভুমি তার" এই শ্লোগানের এখন পরিবর্তন হয়েছে। এখন "ক্ষমতা যার জলা তার"। 

সাক্ষাৎকারে এমন কথা বলার কারণে শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দইহারা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহিন মিয়া ও তার কয়েকজন সহযোগী সম্ভু হাওলাদারকে বাড়ি থেকে পাশের কোচাশহর বাজারে নিয়ে যান। সেখানে তাকে রড দিয়ে বেদম মারপিট করা হয়। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন চলে এলে দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যান। পরে সম্ভুকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।