• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫১ সন্ধ্যা

বিনাদোষে ২৫ দিন ধরে কারাভোগ করছেন টাঙ্গাইলের কলেজছাত্র

  • প্রকাশিত ০৬:২৭ সন্ধ্যা অক্টোবর ২১, ২০১৯
টাঙ্গাইল নয়ন
বিনাদোষে ২৫ দিন ধরে কারাভোগ করছেন টাঙ্গাইলের কলেজছাত্র নয়ন ঢাকা ট্রিবিউন

অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয়নি তার

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার প্রতিমা বংকী গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান বাবুল হোসেন নয়ন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় স্থানীয় সরকারি মুজিব কলেজ থেকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার।

কিন্তু এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয়নি নয়নের। বিনা অপরাধে ২৫ দিন ধরে বন্দি অবস্থায় জেলা কারাগারে দিনাতিপাত করছেন তিনি।

এদিকে, বিনাদোষে প্রায় একমাস কারাগারে থাকা সন্তানের মুক্তি না মেলায় ভেঙে পড়েছেন নয়নের অভিভাবকরা। এঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর বাসাইল উপজেলার চাপড়াবিল এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সখীপুর উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। চারদিন পর টাঙ্গাইল ডিসি লেকের পাশ থেকে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি নয়ন নামের এক ছেলের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিল বলে পুলিশকে জানায়। পরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মেয়েটির মা বাদী হয়ে প্রতিবেশী শাহজাহান আলীর ছেলে বাবুল হোসেন নয়নকে আসামি করে থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে নয়নকে গ্রেফতার করে মেয়েটির মুখোমুখি করে পুলিশ। মেয়েটি গ্রেফতার হওয়া বাবুল হোসেন নয়নকেই অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে।

কিন্তু ওই ছাত্রীকে চেনা ও কক্সবাজারে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে নিজেকে বারবার নির্দোষ দাবি করতে থাকেন নয়ন। তা সত্ত্বেও মেয়েটি তার বক্তব্যে অনড় থাকায় পুলিশ নয়নকে আদালতে নিয়ে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান বলেন, জেলগেটে জিজ্ঞাবাদের সময়েও নয়ন বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিল। মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় অধিকতর গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মেয়েটির কাছ থেকে পাওয়া কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের ভিজিটিং কার্ডের সূত্র ধরে চলে তদন্ত। পরে ওই হোটেলে দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বর ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলে ঘটনার আসল রহস্য সামনে আসে। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা গত ৭ অক্টোবর ঘটনার আসল হোতা নয়ন মিয়াকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়।

নয়ন মিয়া বাসাইল উপজেলার বাঘিল গ্রামের ফারুক ওরফে নূহু মিয়ার ছেলে। ওই ছাত্রীকে কক্সবাজারের একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে।

এদিকে, ঘটনার প্রকৃত আসামিকে গ্রেফতারের ২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও কলেজছাত্র বাবুল হোসেন নয়নের মুক্তি মেলেনি। পরিবার তার দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

বিনাদোষে কারাভোগকারী কলেজছাত্র বাবুল হোসেন নয়নের বাবা শাহজাহান আলী বলেন, ‘‘প্রায় একমাস হয়ে যাচ্ছে, আমার নির্দোষ ছেলে জেল খাটছে। কষ্ট করে তাকে পড়াচ্ছি কিন্তু মিথ্যা মামলার কারণে এবার পরীক্ষাটাও দিতে পারলো না।’’

এবিষয়ে সখীপুর থানার ওসি আমির হোসেন বলেন, ‘‘আমরা ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পেরেছি। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই নির্দোষ নয়ন মুক্তি পাবে।’’

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ নয়নের দ্রুত মুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই। বিনাদোষে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য পুলিশকে সর্তকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’’