• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৪ দুপুর

বিনাদোষে ২৭ দিন কারাভোগ, অবশেষে মুক্তি

  • প্রকাশিত ০৭:৩১ রাত অক্টোবর ২৩, ২০১৯
টাঙ্গাইল নয়ন
বিনাদোষে ২৮ দিন কারাভোগের পর বুধবার মুক্তি পেয়ে মাকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন টাঙ্গাইলের কলেজছাত্র নয়ন ঢাকা ট্রিবিউন

সখীপুরের এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় তিনি গ্রেফতার হন

নামে মিল থাকায় ২৭ দিন বিনাদোষে কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন টাঙ্গাইলের কলেজছাত্র বাবুল হোসেন নয়ন। 

বুধবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। 

এদিন দুপুর ১টার দিকে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সখীপুর-নাগরপুর আমলি আদালতের বিচারক আকরামুল ইসলাম তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। 

নয়নের আইনজীবীরা জানান, মামলার চার্জশিট আদালতে না আসা পর্যন্ত আদালত নয়নকে অস্থায়ী জামিন দিয়েছেন। 

বাবুল হোসেন নয়ন সখীপুর উপজেলার প্রতিমা বংকী গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে।

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেলার আবুল বাশার ঢাকা ট্রিবিউন’কে বলেন, এদিন বিকেলে নয়নের জামিন আদেশ কারাকর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছালে সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে নয়নকে মুক্তি দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সরকারি মুজিব কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নয়ন। সখীপুরের এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় তিনি গ্রেফতার হন। 

গত ২৬ সেপ্টেম্বর মেয়েটির মা বাদী হয়ে প্রতিবেশী শাহজাহান আলীর ছেলে বাবুল হোসেন নয়নকে আসামি করে থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। 


আরও পড়ুন: বিনাদোষে ২৫ দিন ধরে কারাভোগ করছেন টাঙ্গাইলের কলেজছাত্র


কিন্তু গ্রেফতারের পর থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন নয়ন। কিন্তু, পুলিশ তাকে ওই ছাত্রীর মুখোমুখি করলে সে বাবুল হোসেন নয়নকেই অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে। 

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর বাসাইল উপজেলার চাপড়াবিল এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সখীপুর উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। চারদিন পর টাঙ্গাইল ডিসি লেকের পাশ থেকে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি নয়ন নামের এক ছেলের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিল বলে পুলিশকে জানায়। পরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মেয়েটির মা বাদী হয়ে প্রতিবেশী শাহজাহান আলীর ছেলে বাবুল হোসেন নয়নকে আসামি করে থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নয়নকে গ্রেফতার করে মেয়েটির মুখোমুখি করে পুলিশ। মেয়েটি গ্রেফতার হওয়া বাবুল হোসেন নয়নকেই অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে।

কিন্তু ওই ছাত্রীকে চেনা ও কক্সবাজারে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে নিজেকে বারবার নির্দোষ দাবি করতে থাকেন নয়ন। তা সত্ত্বেও মেয়েটি তার বক্তব্যে অনড় থাকায় পুলিশ নয়নকে আদালতে নিয়ে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান বলেন, জেলগেটে জিজ্ঞাবাদের সময়েও নয়ন বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিল। মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় অধিকতর গুরুত্ব নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মেয়েটির কাছ থেকে পাওয়া কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের ভিজিটিং কার্ডের সূত্র ধরে চলে তদন্ত। পরে ওই হোটেলে দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বর ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলে ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচিত হয়। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৭ অক্টোবর ঘটনার আসল হোতা নয়ন মিয়াকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়।

নয়ন মিয়া বাসাইল উপজেলার বাঘিল গ্রামের ফারুক ওরফে নূহু মিয়ার ছেলে। ওই ছাত্রীকে কক্সবাজারের একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

এবিষয়ে সখীপুর থানার ওসি আমির হোসেন বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়। নিরাপরাধ নয়নকে মুক্তি দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানোর কারণেই নয়নের জামিন হয়েছে।”

সন্তানের মুক্তির পর নয়নের বাবা-মা বলেন, মিথ্যা মামলায় প্রায় একমাস নির্দোষ ছেলেটা জেল খাটলো। পরীক্ষাও দিতে পারলো না। 

এজন্য ক্ষতিপূরণ ও বাদীপক্ষের শাস্তিও দাবি করেন তারা। পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান নয়নের অভিভাবকরা।