• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৮ দুপুর

‘রায় বিপক্ষে গেলে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হবে’, নুসরাতের মাকে হুমকি

  • প্রকাশিত ১০:২৪ সকাল অক্টোবর ২৪, ২০১৯
নুসরাত
নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি।

নুসরাতের পরিবার ও ফেনীবাসী আশা করছেন এ মামলায় ন্যায়বিচার পাবে। সকল আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হবে

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে মারার আলোচিত ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর)। রায়কে ঘিরে নানা হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের। আসামি পক্ষের লোকজন ভয়ভীতি দেখিয়ে বলছেন, রায় বিপক্ষে গেলে নুসরাতের পরিবারে বাতি জ্বালানোর মতো কাউকে রাখা হবে না। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার ঢাকা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। এ জন্য পুরো পরিবার নিরাপত্তা শঙ্কায় আছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে ফেনীর সোনাগাজী পৌর শহরের উত্তর চরচান্দিয়ার বাড়িতে গেলে নুসরাতের মা শিরিন বলেন, “প্রধান আসামি সিরাজউদ্দৌলাসহ আসামি পক্ষের লোকজন হুমকি দিচ্ছে। বলছে রায় যদি তাদের স্বজনদের বিপক্ষে যায়, তবে আমাদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। কবর থেকে নুসরাতের মরদেহ গায়েব করার হুমকিও দিচ্ছে কেউ কেউ। এই অবস্থায় আমরা বাড়তি নিরাপত্তা চাই।”

হুমকি দাতাদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্দিষ্ট কারও নাম বলেননি নুসরাতের মা। তবে তিনি আশঙ্কা করে বলেন, “সিরাজউদ্দৌলা জেল থেকে আমার মেয়েকে পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্র করেছে। এখন তো আসামি ১৬ জন। তারা ইচ্ছা করলে আমাদের বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারে।”


আরো পড়ুন - ওসিই ছড়ান ভিডিও, গ্রেফতারি পরোয়ানা


বুধবার নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তিনজন পুলিশ সদস্য পাহারায় আছেন। তারা জানান,রোস্টারভিত্তিক ২৪ ঘণ্টা এই বাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকে পুলিশ।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন আহমেদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের হুমকি না থাকলেও সতর্ক থাকবে পুলিশ। কেউ নুসরাতের পরিবারের দিকে তাকানোর চেষ্টা করলেও শক্ত হাতে তা দমনে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।”

এ বিষয়ে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নুরুন্নবী জানান, নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট রয়েছে জেলা পুলিশ। সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন তিনজন পুলিশ সদস্য। এ নিরাপত্তার বাইরেও নুসরাতের পরিবার যেকোনও বিষয় জানালে পুলিশ সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখার জন্য তৎপর রয়েছে।

গত ১০ জুন নুসরাত হত্যা মামলাটি আদালত আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত। ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর ৯২ সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জন সাক্ষ্য দেন।


আরো পড়ুন - পুরস্কৃত করা হলো নুসরাতকে বাঁচানোর চেষ্টাকারী কনস্টেবল রাসেলকে


আদালত সূত্র জানায়, ২৯ মে এ মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)। চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত।

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ওই মাদ্রাসার কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যায়। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।


আরো পড়ুন - নুসরাত হত্যা: আসামি আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার