• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৮ দুপুর

আসামি ধরতে গিয়ে বাকবিতণ্ডা, পুলিশের গুলিতে শিশুসহ আহত ২

  • প্রকাশিত ০৯:১৭ রাত অক্টোবর ২৪, ২০১৯
গুলি চালানো
প্রতীকী ছবি

এ ঘটনার জেরে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩ পুলিশ সদস্য

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এক আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছেন শিশুসহ দুইজন। এ ঘটনার জেরে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩ পুলিশ সদস্য। 

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার বাঙ্গড্ডা গ্রামে মোহাম্মদ সোহাগ নামে এক আসামিকে ধরতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। 

গুলিবিদ্ধরা হলেন- বাঙ্গড্ডা গ্রামের কবির আহাম্মদের ছেলে রাকিব হোসেন (১১) ও ওমর ফারুক। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আবদুর রহিম, কনস্টেবল জাহিদ ও মানিক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঙ্গড্ডা গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে সোহাগ পুলিশের ওপর হামলাসহ ৪টি মামলার আসামি। এর মধ্যে দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার ভোররাতে এএসআই আবদুর রহিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সোহাগকে তার বাড়ি থেকে আটক করে। 

কিন্তু, সব মামলায় তার জামিন আদেশ রয়েছে জানিয়ে হাতকড়া খুলে দিতে বললে সোহাগের সঙ্গে এএসআই আবদুর রহিমের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বিষয়টি টের পেয়ে সোহাগের ভাই ফারুকসহ প্রতিবেশীরা তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সোহাগের ভাই ফারুক ও রাকিব নামে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। 

এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা পুলিশ সদস্যদের একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। স্থানীয়দের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে এএসআই আবদুর রহিম, কনস্টেবল জাহিদ ও মানিক আহত হন। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সাইফ, নাঙ্গলকোট থানার ওসি মামুন অর রশিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সোহাগ অভিযোগ করে বলেন, জামিনে থাকার পরও আমাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করলে আমার মা ও স্ত্রী পুলিশকে বাধা দেন। এএসআই রহিমের কাছে ওয়ারেন্ট কপি দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। উল্টো তিনি আমাদের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আমাদেরকে মারধর করেন। আমাদের চিৎকার শুনে আমার ভাই এগিয়ে এলে তাকেও গুলি করেন এএসআই। 

পুলিশের গুলিতে আহত শিশু রাকিব জানায়, পাশের বাড়িতে শোরগোল শুনে সেখানে গিয়েছিল সে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন অর রশিদ বলেন, একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি সোহাগকে গ্রেফতার করলে তাকে ছাড়িয়ে নিতে স্বজনরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে দুই রাউন্ড গুলি চালায়। এ ঘটনায় ৩ পুলিশ সদস্যসহ ৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে।