• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৬ দুপুর

মেধাবী ও শান্ত হিসেবেই এলাকায় পরিচিতি ছিল অনিক-রবিনের

  • প্রকাশিত ১১:৪৯ সকাল অক্টোবর ২৫, ২০১৯
অনিক রবিন
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যায় অভিযুক্ত অনিক সরকার (বাঁ দিকে) ও রবিন ঢাকা ট্রিবিউন

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা স্বজনদের পাশাপাশি অবাক করেছে প্রতিবেশীদেরকেও

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার এলাকায় মেধাবী, শান্ত ও বিনয়ী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এমনকি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও খুব একটা পরিচিতি ছিল না তাদের।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার যথাক্রমে ৩ ও ৪ নম্বর আসামি অনিক এবং রবিন।

রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালী পৌরসভার কাপাসিয়া গ্রামে বাড়ি মেহেদী হাসান রবিনের। 

পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রবিনের ডাকনাম শান্ত। নামের মতোই ভদ্র ও বিনয়ী হিসেবে এলাকার সবাই চিনতো তাকে। পড়াশোনাই ছিলো তার ধ্যানজ্ঞান। অতিরিক্ত আড্ডা এমনকি খেলাধুলাও করতে দেখা যেতো না। আবরার হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা স্বজনদের পাশাপাশি অবাক করেছে প্রতিবেশীদেরকেও।

বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান রবিন। তার বাবা মাকসুদ আলী কাটাখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ভরুয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ও পুঠিয়া উপজেলার ভরুয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল সে। এসএসসি ও এইচএসসি-তে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর ভর্তি হন বুয়েটে।


আরও পড়ুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: দ্রুততম সময়ে আবরার হত্যার নির্ভুল চার্জশিট


ছোটবেলা থেকেই বাবাই সার্বক্ষণিক দেখভাল করতেন রবিনের। বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিলো সন্তান মেডিকেল কলেজে পড়ে চিকিৎসক হবে। কিন্তু নিজের ইচ্ছাতে শেষ পর্যন্ত বুয়েটে ভর্তি হন রবিন।

স্বজন ও প্রতিবেশীরা আরও জানান, বুয়েটে ভর্তির পরও রবিনের আচরণে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন তাদের চোখে পড়েনি। ছুটিতে বাড়ি গেলে সবার সঙ্গে আগের মতোই মিশতেন। বাড়ির ছোটদের স্নেহ ও পড়াশোনারও খোঁজ নিতেন। 

রবিনের বাল্যবন্ধু মিনহাজুল জানান, সে বরাবরই শান্ত ও নিরীহ গোছের ছিলো। বুয়েটের মতো বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পরেও তার মধ্যে কোনো অহংকার দেখিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকার বিষয়টিও কখনো কাউকে বলেনি।

তবে, বাড়তি “সুযোগ-সুবিধা” পাওয়ার আশায়ই রবিন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন বলে দাবি স্বজনদের। তাই সন্তানের রাজনীতি সম্পৃক্ততা নিয়ে দুশ্চিন্তাও ছিলো না পরিবারের। বরং তারা মনে করতেন রাজনীতি করলে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

রবিনের বাবা মাকসুদ আলী বলেন, “আমি যেহেতু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত আছি সেহেতু আমার  ছেলেও রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলো। রাজনীতি করলেই যে খারাপ হবে এমন তো নয়। কারণ যারা এখন মন্ত্রী, এমপি হয়েছেন তাদের অনেকেই তো ছাত্র রাজনীতি করেছেন।”


আরও পড়ুন: অনিককে কারাগারে পেটানোর খবর মিথ্যা


আপনি কী চাইতেন আপনার ছেলে ‘পলিটিক্যাল লিডার হবে’ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পলিটিক্যাল লিডার না হলেও সাধারণত সরকারদলীয় ছাত্র রাজনীতি করলে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। সেখান থেকেই মনে হয় আমার ছেলে রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলো। 

ছেলে হত্যাকাণ্ডে যুক্ত ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। সুষ্ঠু তদন্তে রবিন নির্দোষ প্রমাণিত হবে বলেও আশা তার।

এদিকে, আবরার ফাহাদ হত্যার আরেক আসামি অনিক সরকারের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বড়ইকুড়ি গ্রামে। তার বাবা আনোয়ার হোসেন সরকার পেশায় ব্যবসায়ী। মা শাহিদা বেগম গৃহিণী। তার পরিবারও মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। তবে অনিক নিজে স্থানীয় ছাত্র রাজনীতিতে পরিচিত মুখ ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির পর তিনি ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন।

বুয়েটের ১৫ ব্যাচের এই শিক্ষার্থী থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন।

রবিনের মতো তিনিও মেধাবী ও শান্ত হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।


আরও পড়ুন: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন অনিক সরকার


পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে অনিক ছোট। মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়  থেকে এসএসসি পাস করার পর রাজধানীর নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এসএসসি ও এইচএসসি তে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশাববিদালয়ের (বুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। 

স্বাধীনতাত্তোর সময় থেকেই অনিক সরকারের পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত। বুয়েটে ভর্তির পর অনিক সরকার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন। এলাকায় কম থাকার কারণে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে খুব একটা চেনেন না।

অনিকের বড় ভাই সোহেল জানান, তার রাজনীতি সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমরা জানতাম। তাকে নিষেধও করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ছাড়াও সেফটি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলো সে। 

অনিকের এমন কর্মকাণ্ডে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাকে জোর করে ছাত্রলীগের পদ দেওয়া হয়েছিল। এখন যেহেতু একটা ঘটনা ঘটেই গেছে। বিচারে যা হবে তা-ই মেনে নিতে হবে।