• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

প্রতিবছর দেশে স্তন ক্যান্সারে ৭ হাজার নারীর মৃত্যু

  • প্রকাশিত ০৮:৪২ রাত অক্টোবর ২৫, ২০১৯
ডা. মো. এনামুর রহমান
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। সৌজন্য ছবি

সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো স্তন ক্যান্সার হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী উল্লেখ করে সন্তানকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়াতে সব মায়ের প্রতি আহ্বান জানান ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও স্তন ক্যান্সারে নারীদের অবস্থান শীর্ষে। প্রতিবছর দেশে সাড়ে ১২ হাজারের বেশি নারী এ রোগে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার রোগীই মারা যান।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নারী সদস্য ও পরিবারের জন্য স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং বিষয়ে দিনব্যাপী আয়োজিত হেল্থ ক্যাম্পে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিআরইউর সাগর-রুনী মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এ ক্যাম্প চলে। জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ইপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের নেতৃত্বে একটি নারী চিকিৎসক দল এতে অংশ নেন।

ক্যাম্প চলাকালে বেলা ১১টায় স্তন ক্যান্সার বিষয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ডা. রাসকিন জানান, দেরীতে রোগ ধরা পড়া, সঠিক ও পুরো চিকিৎসা না নেয়া বা সুযোগ না থাকা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী ফলোআপ না হওয়া স্তন ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।

সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো স্তন ক্যান্সার হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী উল্লেখ করে তিনি সন্তানকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়াতে সব মায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

ডা. রাসকিন বলেন, নিঃসন্তান নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া বেশি বয়সে সন্তান, ৩০ বছর বয়সের পর বিয়ে ও প্রথম সন্তানের মা হওয়া স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। শাকসবজি ও ফলমূল না খেয়ে চর্বি ও প্রাণীজ আমিষ জাতীয় খাবার বেশি খেলে স্তন ক্যান্সার বেশি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, দেশে স্তন ক্যান্সারের যে ব্যাপকতা রয়েছে তাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। প্রাথমিক অবস্থায় এটা নির্ণয়ের জন্য স্ক্রিনিং কর্মসূচি জনগণের নাগালের মধ্যে নেয়া প্রয়োজন। সরকার ইতিমধ্যে আটটি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২৩ শ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দিয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তাবায়িত হলে নতুন ক্যান্সার কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসার পাশাপাশি সচেতনতা ও স্ক্রিনিং মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে।

ডিআরইউ সভাপতি ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কল্যাণ সম্পাদক কাওসার আজম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান।