• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৭ রাত

আবারও পায়ুপথে বাতাস দিয়ে শিশু শ্রমিককে হত্যা

  • প্রকাশিত ০৯:০৮ রাত অক্টোবর ২৫, ২০১৯
শিশু মৃত্যু
প্রতীকী ছবি।

এই ঘটনায় নিহত শিশুর এক সহকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ

বগুড়ার কাহালুর আফরিন জুট মিলে ১২ বছরের এক শিশু শ্রমিককে পায়ুপথে বাতাস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকালে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত শিশুর এক সহকর্মীকে (১৭) আটক করেছে পুলিশ।    

পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিহত শিশু উপজেলার মুরইলে আফরিন জুট মিলে শ্রমিকের কাজ করতো। শুক্রবার বেলা পৌনে ১১ টার দিকে কর্মস্থলে ওই শিশুর এক সহকর্মী তার অজ্ঞাত কারণে তার পায়ুপথে মেশিন পরিস্কার করার পাইপ ঢুকিয়ে হাওয়া দেয়। এতে পেট ফুলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৩ টার কিছু পর মৃত্যু হয় ওই শিশুর।

হাসপাতালের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানান, "পায়ুপথে হাওয়া দেওয়ায় পাকস্থলীর সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।"

পরে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সহকর্মীর বিরুদ্ধে শিশুটির বাবা থানায় অভিযোগ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।

কাহালু থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, "প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত কিশোর দুষ্টুমির ছলে এই কাজ করেছে বলে জানিয়েছে। নিহত শিশুর পিতা এই ঘটনায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।"

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় জোবেদা টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলে ১০ বছরের শিশু শ্রমিক সাগর বর্মণকে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। ওই বছরেরই ১৫ ডিসেম্বর জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মহজমপুরে বিআর স্পিনিং মিলে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয় আরেক শিশু শ্রমিক মো. ইয়ামিনকে (১৬)।