• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৩১ দুপুর

ভাগ্য ফেরাতে সৌদি গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন নাজমা বেগম

  • প্রকাশিত ০৯:৫০ রাত অক্টোবর ২৫, ২০১৯
মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

মৃত্যুর দু'দিন আগেও নির্যাতনের বর্ণণা দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বজনদের কাছে আকুতি জানান নাজমা, কিন্তু অর্থাভাবে ফেরানো যায়নি তাকে

সৌদি আরবে অমানুষিক নির্যাতনে নাজমা বেগম (৪০) নামে মানিকগঞ্জের এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর ১ মাস ২৪ দিন পর বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে দেশে আসে নাজমা বেগমের মৃতদেহ। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের ইসলামনগর গ্রামে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ১০ মাস আগে মো. সিদ্দিক নামের এক দালালের মাধ্যমে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাজমা। সেখানে তাকে একটি হাসপাতালের পরিছন্নতাকর্মীর কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও তাকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কিন্তু যে বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন সেখানে শুরু থেকেই চরম নির্যাতনের সম্মুখীন হন নাজমা। বাড়ির মালিকের ছেলে তাকে যৌন নির্যাতন করতেন। কথা না শুনলে বেধড়ক মারপিটও করা হতো তাকে। এমনকি ওই বাড়ির অন্যান্যরাও সুযোগ পেলেই তার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালাতেন। মৃত্যুর দু'দিন আগেও নির্যাতনের বর্ণণা দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বজনদের কাছে আকুতি জানান নাজমা। কিন্তু অর্থাভাবে তাকে দেশে ফিরে আনা সম্ভব হয়নি।

নাজমার ছেলে রাজিব মিয়া জানান, অমানুষিক নির্যাতনে তার মায়ের মৃত্যু হযেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর ভোরে এক সৌদি প্রবাসী তাদের ফোন করে মায়ের মৃত্যুর খবর দেন। সৌদি আরবের আরা শহরের একটি সরকারি হাসপাতালের হিমঘরে তার মায়ের মরদেহ রাখা হয়েছে বলে তাদের খবর দেয়া হয়। মায়ের মরদেহ দেশে আনার মতো অর্থ তাদের ছিল না। পরে সিংগাইর উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে বৈদেশিক কল্যাণ সংস্থার সহযোগিতায় মরদেহ বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আনা হয়। শুক্রবার দুপুরে ইসলামনগর কবরস্থানে নাজমা বেগমকে দাফন করা হয়।  

উল্লেখ্য, এর আগে সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে আবিরন নামে খুলনার এক প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়।