• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ সকাল

উপাচার্যের কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ার অডিও ভাইরাল

  • প্রকাশিত ১০:১৬ সকাল অক্টোবর ২৬, ২০১৯
পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়

পাবনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই চাকরিপ্রার্থী উত্তেজিত অবস্থায় উপাচার্যের ক্ষতি করার হুমকি দিয়েছেন

ঘুষের বিনিময়ে এক প্রার্থীকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতির অভিযোগ উঠেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে। এনিয়ে প্রার্থীর সঙ্গে ভিসি-র কথোপথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে ভাইরাল হওয়া অডিওটিকে পূর্বপরিকল্পিত হিসেবে আখ্যায়িত করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে মো. মনিরুল ইসলাম নামের ওই চাকরিপ্রার্থীর বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় জিডি করেছেন পাবিপ্রবি-র অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম।

ইতিহাস বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৮জন প্রার্থী অংশ নেন। ছয়জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করে তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে নিজের নাম না দেখে ক্যাম্পাসে হাজির হয়ে উপাচার্যের কাছে চাকরির জন্য ঘুষ হিসেবে দেওয়া টাকা ফেরত চান মনিরুল। পরে উপাচার্যের কাছে ওই চাকরিপ্রার্থীর টাকা চাওয়ার অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

উপাচার্য প্রফেসর ড. রোস্তম আলী বলেন, “অনুত্তীর্ণ কিছু প্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এছাড়া নিয়োগ প্রার্থী কুমিল্লার বালুচর কৃষ্ণনগর মো. নুরুল হকের ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষা শেষে আমি বাসায় যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠার সময় তিনি আমার সঙ্গে অশোভন, অসংলগ্ন ও উত্তেজিত অবস্থায় উত্তপ্ত কথা বলেন। যেকোনও সময় আমার ক্ষতি করার হুমকি দেন।”

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই চাকরিপ্রার্থী উত্তেজিত অবস্থায় উপাচার্যের ক্ষতি করার হুমকি দিয়েছেন।

চাকরিপ্রত্যাশী প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পাবিপ্রবি-র ইতিহাস বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে সব শর্ত মেনে তিনি আবেদন করেন। গত জুনে কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করলে পরিচিত এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। সে সময় দুই দফা সাক্ষাতের পর উপাচার্য শিক্ষক হিসেবে তাকে নিয়োগ দিতে ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। নিয়োগ পরীক্ষার আগেই জমি বিক্রি করে তিনি ঢাকার ফার্মগেটে গিয়ে উপাচার্যকে দুই দফা প্রথমে পাঁচ ও পরে তিন লাখ টাকা দেন। পরীক্ষার আগের দিনও ফোনে তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেন উপাচার্য।

মনিরুল ইসলাম জানান, প্রকাশিত ফলে নিজের নাম না পেয়ে উপাচার্যকে ফোন করেন তিনি। বলেন, যেহেতু নিয়োগ দেওয়া হয়নি সেহেতু তার টাকা যেন ফেরত দেওয়া হয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অডিও-র বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।