• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:২৩ দুপুর

'ঝাপান খেলা'য় মুগ্ধ শত শত নারী-পুরুষ

  • প্রকাশিত ০৭:৩৪ রাত অক্টোবর ২৭, ২০১৯
ঝাপান খেলা
ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় রবিবার অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী 'ঝাপান খেলা'।ঢাকা ট্রিবিউন

নীলা আশিকী নামের এক গৃহবধু বলেন, 'আমি জীবনের প্রথম ঝাপান খেলা দেখছি। আমার খুব ভালো লেগেছে'

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী 'ঝাপান খেলা'। সাপের এ জনপ্রিয় খেলা দেখতে ভিড় করে শত শত মানুষ।  রবিবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার বাদামতলা বাজারে ঝাপান খেলার আয়োজন করে বাজার কমিটি। 

দুপুরের পর থেকে শুরু হয় এই প্রতিযোগিতা। ছয়টি সাপুড়ে দলের অর্ধশতাধিক সাপ নিয়ে আকর্ষণীয় সব কসরত দেখান সাপুড়েরা। বাদ্যের তালে তালে সাপুড়েরা নিজে নাচেন। একইসঙ্গে ফনা তুলে সাপও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে। সাপুড়ের ইশারায় সাপের এই অঙ্গভঙ্গি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসে দর্শনার্থীরা। খেলায় সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথম হয় শৈলকুপা উপজেলার ভাটই এলাকার সোহেল সাপুড়ে।

ঝিনাইদহ শহর থেকে ঝাপান খেলা দেখতে আসা নীলা আশিকী নামের এক গৃহবধু বলেন, "আমি জীবনের প্রথম ঝাপান খেলা দেখছি। আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি চাইবো এ ধরনের আয়োজন যেন প্রতি বছর করা হয়।" 

সাদিয়া আফরিন নামের অপর এক গৃহবধু বলেন, "আমি শহরে থাকি। ঝাপান খেলার কথা শুনে আমার বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি। আমিও দেখছি। ওরাও দারুণ উপভোগ করছে। সাপ সম্পর্কে ওদের ধারণা হচ্ছে।"

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় রবিবার অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী 'ঝাপান খেলা'।ঢাকা ট্রিবিউন  পোড়াহাটি এলাকার রাশেদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে বয়োবৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, শিশুরা উপস্থিত থেকে এই খেলা উপভোগ করেন। খেলাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য যে এতো মনোমুগ্ধকর, ঝাপান খেলা না দেখলে বোঝা যাবে না।

শৈলকুপা থেকে আসা লিটন সাপুড়ে বলেন, "মূলত আমাদের পেশা এটা না। আমরা মানুষকে আনন্দ দিই, আর খেলা করে আনন্দ পাই। এজন্যই দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ঝাপান খেলা করি।"

এ ব্যাপারে আয়োজক বাদামতলা বাজার কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শওকত আলী বলেন, চিরায়ত বাংলার ঐহিত্যবাহী এ খেলা দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং এলাকার মানুষকে একটু আনন্দ দিতেই এ আয়োজন।