• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৯ রাত

চেয়েছিলেন ‘ক্ষমা করতে’, ধরা পড়লেন দুদকের জালে

  • প্রকাশিত ০৭:৫০ রাত অক্টোবর ২৭, ২০১৯
বগুড়া দুদক
ঘুষের টাকা নেওয়ার বগুড়া সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আনিসুর রহমানকে বৃহস্পতিবার হাতেনাতে গ্রেফতার করে দুদক ঢাকা ট্রিবিউন

তদন্ত করে দুদক কর্মকর্তারা অভিযোগের সত্যতা পেলে আনিসুরকে হাতেনাতে ধরার পরিকল্পনা করেন

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ফেঁসে গেছেন সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান (৩৫)। ‘ক্ষমা করে দেওয়ার’ বিনিময়ে চুক্তিভিত্তিক আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করে দুদক।

রবিবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে অস্থায়ী আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় তাকে হাতেনাতে ধরে দুদক। তার কার্যালয় থেকে হিসাববহির্ভূত আরও ২৫ হাজার ২৫০ টাকা পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে আনিসুরের বিরুদ্ধে বগুড়া আঞ্চলিক দুদক কার্যালয়ে মামলা করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম।

সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। আনিসুর রহমানের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চন্দনগাঁতি গ্রামে।

দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, শহরের মালতিনগরে জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে গত ১৬ অক্টোবর অস্থায়ী (চুক্তিভিত্তিক) আনসার সদস্যদের সভা ছিল। বিভিন্ন কারণে ১২ জন আনসার সদস্য ওই সভায় উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন। সে কারণে তাদের শোকজন করেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। 

এতে ভয় পেয়ে তারা আনিসুর রহমানের সঙ্গে দেখা করলে তিনি তাদের কাছে ঘুষ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। ১২ আনসার সদস্যের অনুরোধে তিনি ২০ হাজার টাকায় বিনিময়ে তাদের ‘ক্ষমা করে দেওয়ার’ আশ্বাস দেন। 

শাকিল আল মামুন নামে অন্যতম ভুক্তভোগী আনসার সদস্য এ বিষয়ে দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। 

তদন্ত করে দুদক কর্মকর্তারা অভিযোগের সত্যতা পেলে আনিসুরকে হাতেনাতে ধরার পরিকল্পনা করেন। 

দুদকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শাকিল আল মামুনসহ অন্য আনসার সদস্যরা রবিবার বিকেলে বগুড়া শহরের মালতিনগর এলাকায় জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে যান। আগে থেকেই সেখানে সেখানে ওৎঁপেতে ছিলেন দুদক কর্মকর্তারা। ঘুষের ২০ হাজার টাকা নেওয়ার সময় দুদক কর্মকর্তারা তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন।

উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান আরও জানান, ওই সময় আনিসুর রহমানের টেবিলের ড্রয়ারে আরও ২৫ হাজার ২৫০ টাকা পাওয়া যায়। ওই টাকার উৎস সম্পর্কে কোনো সন্তোষজনক জবাব তিনি দিতে পারেননি। গ্রেফতারের পর তাকে দুদক কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

এ অপরাধে দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম আনিসুরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করেছেন। তাকে সদর থানায় সোপর্দ করা হবে।