• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫১ সন্ধ্যা

আজিজ মোহাম্মদ ভাই: একই অঙ্গে বহুরূপ

  • প্রকাশিত ০৫:০৫ সন্ধ্যা অক্টোবর ২৮, ২০১৯
আজিজ মোহাম্মদ ভাই
ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই সৌজন্য

তিনি যেমন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কাজ করেছেন তেমনি হত্যা, মাদক পাচার ও শেয়ার কেলেঙ্কারির মতো ঘটনায় বারবার তার নাম উঠে এসেছে

ধনকুবের আজিজ মোহাম্মদ ভাই বহু রহস্যে ঘেরা এক ব্যক্তি। বিভিন্ন সময়ে তিনি নানা কারণে সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। নামে "ভাই" থাকায় অনেকেই তাকে "গডফাদার" ভাবেন। তবে, এটি তাদের পারিবারিক উপাধি মাত্র।

তার মানে এই নয় যে, বিতর্কিত কোনো বিষয়ে এই প্রথম তার নাম এলো। এর আগেও শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, হত্যাকাণ্ড ও মাদক পাচারের মতো বিভিন্ন ঘটনায় বারবার তার নাম উঠে এসেছে।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় ভারতের কানপুর থেকে বাংলাদেশে পাড়ি জমান আজিজের বাবা মোহাম্মদ ভাই। পরের বছর থেকে পুরান ঢাকায় ব্যবসায় নামেন তিনি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। সময়ের ব্যবধানে তিনি বাংলাদেশের স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজের পথিকৃৎ হয়ে ওঠেন। ১৯৫৯ সালে দেশের প্রথম স্টিল মিল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

আজিজের জন্ম রাজধানীর আরমানিটোলায়। তরুণ বয়সে পারিবারিক ব্যবসার পাশাপাশি নিজেও আলাদা করে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গেই বড় হতে থাকে নিজের ব্যবসাও। তাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে এখনও আজিজের বাবা মৃত মোহাম্মদ ভাইয়ের নাম দেওয়া রয়েছে। পরিচালক হিসেবে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আজিজের নামও রয়েছে।

পারিবারিক ব্যবসার পাশাপাশি আম্বি ফার্মাসিউটিক্যালস ও আম্বি ফিল্মসের চেয়ারম্যান তিনি। বাংলাদেশে চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি সুপরিচিত। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ কিছু ছবি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করে।


আরও পড়ুন: আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসায় অভিযান, মাদক উদ্ধার


এছাড়াও সার্ক চেম্বার অব কমার্সের আজীবন সদস্য তিনি। কথিত আছে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং ও সিঙ্গাপুরে তার হোটেল রিসোর্টের ব্যবসা রয়েছে। 

আজিজকে ঘিরে যত বিতর্ক

আজিজের সঙ্গে একাধিক নারী; বিশেষ করে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের সম্পর্ক নিয়ে এখনও মিডিয়াপাড়ায় নানা ধরনের রটনা প্রচলিত।

এরশাদের শাসনামলে তিনি প্রথম গ্রেফতার হয়েছিলেন। কথিত আছে, নিজারি ইসলামের (শিয়া মতাদর্শীদের একটি ভাগ) বর্তমান ইমাম ৪৯ তম প্রিন্স আগা খানের হস্তক্ষেপে মুক্তি পান তিনি। সেসময় বাংলাদেশে এসছিলেন আগা খান।

১৯৯৬ সালে বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার একজন আসামি হিসেবে আবারও আলোচনায় আসেন চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে সুপরিচিত আজিজ।

১৯৯৯ সালে আরেক চলচ্চিত্রাভিনেতা সোহেল চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও তার নাম আসে। তবে, কখনোই তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি।

২০০৭ সালে গুলশানের একটি বাসা থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন তার ভাতিজা আমিনুল হুদা। এই ঘটনার তদন্তেও আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের নাম আসে। তবে, বরাবরের মতো সেবারও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি পুলিশ।   

২০১৮ সালে, ১৯৯৬ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। 

থাইল্যান্ডে আজিজ, ব্যবসা চালান স্ত্রী

তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জনক আজিজ দীর্ঘদিন ধরেই থাইল্যান্ডে বসবাস করছেন। তার অবর্তমানে স্ত্রী নওরিন আজিজ মোহাম্মদ ভাই সফলভাবে পারিবারিক ব্যবসাগুলোর দেখভাল করছেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আম্বি ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নওরিন। আজিজের এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও নিয়োজিত তিনি।   

এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও জাতিসংঘ প্রকাশিত এক তালিকায় বেঙ্গল স্টিল ওয়ার্কস লিমিটেড, আম্বি লিমিটেড ও দ্য মর্নিং সান- এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও আজিজের স্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়। এর পাশাপাশি প্রগতি প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী তিনি।