• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১০ রাত

নাতি বংশের 'প্রদীপ', তাই শুধু স্ত্রীকে হত্যার নির্দেশ

  • প্রকাশিত ০৮:২৭ রাত অক্টোবর ২৮, ২০১৯
লাশ

স্ত্রীকে হত্যার আগে খুনিরা আবদুর রহমানকে তার ছেলের ঘরের আট বছরের নাতি শাওনকে হত্যার প্রস্তাব দেন

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হাসিনা বেগম (৫০) নামের এক নারীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। 

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বলধরা ইউনিয়নের খৈয়ামুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার ভোরে লাশটি উদ্ধার করা হয়। 

নিহত ওই নারীর স্বামী আবদুর রহমান খৈয়ামুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। আটকের পর রবিবার (২৭ অক্টোবর) আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলমগীর নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

সিংগাইর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন হাসিনা বেগম। তার গলা কাটা লাশ শনিবার ভোরে বাড়ির আধা কিলোমিটার দূরে একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই হাসিনা বেগমের ছোট ভাই মেছের আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার হাসিনা বেগমের স্বামী আবদুর রহমানকে আটক করে। পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। পরে রবিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম সারোয়ারের আদালতে আবদুর রহমান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে আবদুর রহমান জানান, প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে ৩০ শতাংশ জমি হাসিল করার উদ্দেশ্যে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি তার এলাকার আলমগীর হোসেনের মাধ্যমে আরও তিনজনকে এই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত করেন। পাঁচ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার শর্তে ওই চারজন ভাড়াটে খুনি হত্যাকাণ্ডে রাজি হন। স্ত্রীকে হত্যার আগে খুনিরা আবদুর রহমানকে তার ছেলের ঘরের আট বছরের নাতি শাওনকে হত্যার প্রস্তাব দেন। কিন্তু নাতি তার বংশের 'প্রদীপ', তাই শুধু স্ত্রীকে হত্যার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে খুনি আলমগীর বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করেন। তখন হাসিনা বেগমকে আবদুর রহমান আলমগীরের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। স্বামীর কথা অনুযায়ী হাসিনা বেগম বাড়ি বাইরে যান। আলমগীর হাসিনা বেগমের সঙ্গে কথা বলতে বলতে বাড়ি থেকে দূরে নিয়ে যান। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে লাশ ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।