• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫১ সন্ধ্যা

টাঙ্গাইল-আরিচা মহাসড়কের ১২টি বেইলি সেতুই ঝুঁকিপূর্ণ

  • প্রকাশিত ০৮:৪৭ রাত অক্টোবর ২৮, ২০১৯
টাঙ্গাইল-আরিচা মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ
টাঙ্গাইল-আরিচা মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ আব্দুল্লাহ আল নোমান/ঢাকা ট্রিবিউন

একরকম দায়সারাভাবেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সাবধানে পারাপার’ হওয়ার নির্দেশনা সম্বলিত সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ

টাঙ্গাইল-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে থাকা মোট ১২টি বেইলি সেতুর সবগুলোর অবস্থাই নড়বড়ে। ঝুঁকি নিয়ে সেতুগুলো পার হচ্ছে যানবাহন। যেকোনো সময় বড়ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বেইলি সেতুগুলোর পরিবর্তে ওইসব পয়েন্টে স্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং সড়ক প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সড়কটিতে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৫৫ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩৫ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার টাঙ্গাইলে ও ২০ কিলোমিটার পড়েছে মানিকগঞ্জ জেলায়। আঞ্চলিক এই মহাসড়কটি টাঙ্গাইল শহর থেকে শুরু দেলদুয়ার, নাগরপুর উপজেলা সদর, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও ঘিওর উপজেলা সদর হয়ে বরাংগাইল পয়েন্টে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মিশেছে।

প্রায় দুই দশক আগে এই সড়ক নির্মাণের সময় টাঙ্গাইল অংশে স্থাপন করা হয় ১২টি বেইলি সেতু। এগুলো হলো- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অলোয়া, দেলদুয়ারের এলাসিন, নাগরপুরের খোরশেদ মার্কেট, ধলাপাড়া, থানা মোড়, বারাপুষা, ভালকুটিয়া, তিরছা, টেংরীপাড়া, আড়রাকুমার, ধুবুরিয়া ও চাষাভাদ্রা।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৩ সালে ধলেশ্বরী সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়ক ব্যবহার করে টাঙ্গাইল থেকে আরিচা যেতে ফেরি পারাপারের বিড়ম্বনা শেষ হয়। ফলে ওইবছর থেকেই সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বেড়ে যায় কয়েকগুণ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মালবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস এই সড়ক ব্যবহার করে টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে। এছাড়াও, প্রতিদিন কয়েকশ’ সিএনজিচালিত অটোরিকশা টাঙ্গাইল-আরিচা সড়কে চলাচল করে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাইনবোর্ড। ছবি: আব্দুল্লাহ আল নোমান/ঢাকা ট্রিবিউন

সরেজমিনে দেখা যায়, বেইলি সেতুগুলোর অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক যানবাহনকে চলতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। প্রতিটি সেতুরই স্টিলের পাটাতন ক্ষয়ে গেছে। ফলে মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহন প্রায়ই চাকা পিছলে দুর্ঘটনার শিকার হয় আর ভারী যানবাহন উঠলে রীতিমতো কেঁপে ওঠে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, একরকম দায়সারাভাবেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সাবধানে পারাপার’ হওয়ার নির্দেশনা সম্বলিত সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

তিরছা গ্রামের জাফর আলী বলেন, ‘‘এবছর জানুয়ারিতে ট্রাক আটকে গিয়েছিল পাটাতনে। পরে সেতুর ওই অংশ মেরামত করা হয়।’’

এই সড়কে চলাচলকারী ট্রাক চালক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘‘একেকটি সেতু পার হওয়ার সময় মনেহয় এই বুঝি ভেঙে পড়লো। আতঙ্ক নিয়েই সেতু পার হতে হয়।’’

টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড়মনি বলেন, টাঙ্গাইল-আরিচা সড়কের বেইলি সেতুগুলোর স্থানে স্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং সড়কটি প্রশস্ত করা প্রয়োজন। এতে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সঙ্গে আরিচা হয়ে দেশের দক্ষিণবঙ্গের যাতায়াত সহজ হবে।

এবিষয়ে টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘টাঙ্গাইল-আরিচা সড়কের বেইলি সেতুগুলোর জায়গায় স্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং এই সড়কের উন্নয়নের জন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। একনেকে এই প্রস্তাব পাস হলে এর উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে। আশা করছি দ্রুতই প্রস্তাবটি পাস হবে।’’