• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫২ রাত

ডিম পেড়ে আশার আলো দেখাচ্ছে মহাবিপন্ন ঘড়িয়ালটি

  • প্রকাশিত ০৯:০৭ রাত অক্টোবর ২৮, ২০১৯
ঘড়িয়াল
রাজশাহী চিড়িয়াখানায় মহাবিপন্ন ঘড়িয়াল। এএফপি

‘যখন ঘড়িয়াল দুটিকে একত্র করা হয়, আমরা ভেবেছিলাম তারা হয়তো প্রজনন ক্ষমতা হারিয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি ঘড়িয়ালটি ডিম দিতে শুরু করেছে’

দুই চিড়িয়াখানার মধ্যে ঘড়িয়াল বদলের দুই বছরেরও বেশি সময় পর রাজশাহী চিড়িয়াখানায় ডিম দিতে শুরু করেছে স্ত্রী ঘড়িয়ালটি। এ ঘটনায় মহাবিপন্ন এই প্রাণীটি রক্ষায় নতুন যুগের সূচনা হলো বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। 

এক সময় দেশের নদ-নদীতে প্রচুর ঘড়িয়াল দেখা যেত। কিন্তু কালের আর্বতে এই প্রাণীটি দেশ থেকে হারিয়ে গেছে। তবে মাঝে মাঝে পদ্মা বা ব্রহ্মপুত্র নদীতে দু’একটি ঘড়িয়ালের দেখা পাওয়া যায়, সেগুলো ভারতের উজান থেকে আসে বলেই মনে করেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা।  

২০১৭ সালের ১১ আগস্ট ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে “গড়াই” নামে ৪১ বছর বয়সী একটি পুরুষ ঘড়িয়াল রাজশাহী শহিদ একেএম কামরুজ্জামান সেন্ট্রাল পার্ক ও চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। একইসঙ্গে “পদ্মা” নামে ৩৫ বছর বয়সী একটি স্ত্রী ঘড়িয়ালকে রাজশাহী চিড়িয়াখানা থেকে ঢাকা চিড়িয়াখানায় আনা হয়। কারণ এর আগে এ দুটিতে চিড়িয়াখানাতে শুধু পুরুষ বা স্ত্রী ঘড়িয়ালই ছিল। 


আরো পড়ুন - শকুন সংরক্ষণে বাংলাদেশ, কী করছে সরকার?


এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) এর ঘড়িয়াল প্রকল্পের প্রধান সারোয়ার আলম এএফপিকে বলেন, “যখন ঘড়িয়াল দুটিকে একত্র করা হয়, আমরা ভেবেছিলাম তারা হয়তো প্রজনন ক্ষমতা হারিয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি ঘড়িয়ালটি ডিম দিতে শুরু করেছে।”  

রাজশাহী চিড়িয়াখানার কিউরেটর ফরহাদ উদ্দিন জানান, গত সপ্তাহে ভারী বৃষ্টিপাতের পর ঘড়িয়ালের দুটি নষ্ট ডিম পানিতে ভেসে ওঠে। কিন্তু ঘড়িয়াল দুটি জুটি বাঁধায় স্ত্রী ঘড়িয়ালটি আরো ডিম পাড়বে।  

ফরহাদ উদ্দিন বলেন, “আমরা যদি চিড়িয়াখানাতে আরো ভালোভাবে বালির ঢিবি তৈরি করতে পারি তবে স্ত্রী ঘড়িয়ালটি আরো ডিম পাড়বে। কিন্তু সবচেয়ে উৎসাহব্যাঞ্জক বিষয় হচ্ছে, স্ত্রী ঘড়িয়ালটি ডিম পাড়তে শুরু করেছে।”


আরো পড়ুন - বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বাংলাদেশ কি ব্যর্থ হতে যাচ্ছে?


আইইউসিএননের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাকিবুল আমিন বলেন, ঘড়িয়ালের নিরাপদ প্রজননে তহবিল সংগ্রহের জন্য আইইউসিএন চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে গত এক দশকে কোনো পূর্ণবয়স্ক ঘড়িয়ালের দেখা পাওয়া যায়নি।      

এই প্রাণীটি বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান ও ভুটান থেকে হারিয়ে গেছে। শুধু ভারত ও নেপালের নদ-নদীতে ২০০টির মতো টিকে আছে। চিড়িয়াখানায় ঘড়িয়ালের এই প্রজনন প্রচেষ্টা যদি সফল হয় তবে তা বন্যপরিবেশে ঘড়িয়াল অবমুক্ত করার ক্ষেত্রে আশার সঞ্চার করবে।  

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা ও যমুনা নদী এখনো ঘড়িয়ালের প্রজনন ও বাসযোগ্য রয়েছে।


আরো পড়ুন - প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে খাঁচার পাখি অবমুক্ত করে সমালোচনায় মেয়র খোকন