• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪২ সকাল

রাতের আধাঁরে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করেন যুবলীগ নেতা!

  • প্রকাশিত ০৫:৪৩ সন্ধ্যা অক্টোবর ২৯, ২০১৯
টাঙ্গাইল গাছ
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ঢাকা ট্রিবিউন

সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিনা টেন্ডারে গাছ কেটে বিক্রি করলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পর্যন্ত পায়নি

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রাতের আঁধারে সড়কের পাশের সরকারি গাছ কেটে করে বিক্রি করেছে একটি চক্র। উপজেলার তেজপুর থেকে গান্ধিনা পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার এবং গান্ধিনা থেকে দড়িখরশিলা পর্যন্ত ৬শ’ মিটার সড়কের দু’পাশের সরকারি গাছ ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রিও হয়েছে। গাছগুলো কিনেছেন স্থানীয় দুই কাঠ ব্যবসায়ী। রাতের আঁধারে এসব গাছ কাটা ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে নাগবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আয়নাল হকের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা এলজিইডির অধীনে নাগবাড়ী ইউনিয়নের তেজপুর থেকে গান্ধিনা পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার এবং গান্ধিনা থেকে দড়িখরশিলা পর্যন্ত ৬শ’ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। কিছুদিন ধরে রাস্তার দু’পাশের গাছগুলো রাতের আঁধারে কেটে নিচ্ছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। ইতোমধ্যে কাটা গাছগুলো বিক্রিও করা হয়েছে। বর্তমানে সেগুলো স্থানীয় একটি কাঠ চেরাই কারখানায় রাখা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আয়নাল হকের নেতৃত্বে এসব সরকারি গাছ কাটা ও বিক্রি করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিনা টেন্ডারে গাছ কেটে বিক্রি করলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পর্যন্ত পায়নি। যুবলীগ নেতা আয়নালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং একাধিক মামলা রয়েছে।

এদিকে, গাছগুলোর ক্রেতা আব্দুল মালেক গাছ কেনার বিষয়টি স্বীকার করলেও বিক্রেতাদের নাম প্রকাশ করতে অপারগতা জানিয়েছেন তিনি।

নাগবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাকছুদুর রহমান মিল্টন সিদ্দিকী বলেন, কয়েকজন ঠিকাদারের সহযোগিতায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা আয়নাল হক গাছ কেটে বিক্রি করেছেন বলে শুনেছি। 

তবে গাছ কাটা ও বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবলীগ নেতা আয়নাল হক।

এদিকে, এ বিষয়ে এলজিইডি’র কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, তেজপুর থেকে গান্ধিনা ও গান্ধিনা থেকে দড়িখরশিলা পর্যন্ত রাস্তার প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এ সুযোগে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল রাতের আধাঁরে রাস্তার দু’পাশের গাছগুলো কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করেছে। সরকারি গাছ কাটা ও বিক্রির কোনো টেন্ডার সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়নি। এ ঘটনায় জড়িতদের নাম উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।