• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

রেলের সরকারি বাসা বরাদ্দ নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য

  • প্রকাশিত ০৫:৪৮ সন্ধ্যা অক্টোবর ৩০, ২০১৯
রেলওয়ে কলোনি
রেলওয়ে কলোনি। ছবি: ইউএনবি

এসব বাসায় রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস করার কথা থাকালেও ৯০ শতাংশ বাসাতেই রয়েছেন বহিরাগতরা। মূলত রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রভাবশালীরাই তাদের থাকার সুযোগ করে দিয়ে প্রতিমাসে আদায় করছে কোটি টাকা

বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি বাসা বরাদ্দ নিয়ে বহিরাগতদের ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আয় করছে রেলের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী। রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসে বছরের পর বছর ধরে এই বে-আইনি কাজের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এনিয়ে সংবাদপত্রে লেখালেখি শুরু হলে টনক নড়েছে প্রশাসনের। দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি টিম এব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানায় ইউএনবি।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করেন। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন উপ-সহকারী পরিচালক হোসাইন শরীফ, সহকারী পরিদর্শক অধির চন্দ্র নাথ ও কনেস্টেবল ফিরোজ মাহমুদ।

রেলওয়ের তথ্যমতে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন চট্টগ্রামের ৩০টি কলোনিতে চার ক্যাটাগরিতে মোট পাঁচ হাজার ৩২৯টি বাসা রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের জন্য ১৫৩টি। দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের জন্য ২৩৭টি, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য দুই হাজার ২৫৫টি ও চতুর্থ শ্রেণীর জন্য দুই হাজার ৬৮৪টি বাসা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীই বাসা বরাদ্দ নিয়ে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করছেন। তারা পুরো বাসা ভাড়াই দেননি, অনেকেই কোয়ার্টারের আঙিনা ও আশপাশের খালি জায়গায় নির্মাণ করেছেন কাঁচা-পাকা অনেক ঘর। এসব ঘর ভাড়া দিয়ে ‘উপরি আয়’ করছেন। এমন আয়ের সুযোগ থাকায় রেলওয়ের বাসার চাহিদাও বেশি। তাই বরাদ্দ এবং পছন্দের বাসাটি পেতে ঘাটে ঘাটে দিতে হয় অর্থ। অবৈধভাবে ভাড়া দেওয়া এসব বাসায় থাকা পানি ও বিদ্যুতের সংযোগও অবৈধভাবে দেওয়া হয়েছে।

এসব বাসায় রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাস করার কথা থাকালেও ৯০ শতাংশ বাসাতেই বাস করছে বহিরাগতরা। মূলত রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্ত-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রভাবশালীরাই তাদের থাকার সুযোগ করে দিয়েছে। যার বিনিময় প্রতিমাসে আদায় করছে কোটি টাকা। অথচ নাম মাত্র কিছু টাকা রেল কর্তৃপক্ষ পেলেও বেশির অংশই কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রভাবশালীদের পকেটে।

দুদকের অভিযান সূত্রে জানা যায়, নগরীর টাইগারপাস, পাহাড়তলী রেলওয়ে কলোনিতে থাকা পাঁচ হাজার বাসার মধ্যেই ৯০ ভাগ বাসাই রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় বহিরাগতরা দখল করে আছে। একই সাথে প্রভাবশারী এই চক্র প্রতিটি কোয়াটারের সামনে ১০ থেকে ১৫ টি করে প্রায় কয়েকশত ঘর তুলেছে। যা থেকে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করছে। অথচ এসব টাকার এক পয়সাও পায় না রেল কর্তৃপক্ষ।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুদকের হটলাইন নম্বর ১০৬-এ অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালায় দুদক টিম। এসময় দুদক সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কোয়ার্টার বরাদ্দ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা এবং সরেজমিন পরিদর্শ করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। এবিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য সুপারিশ করে কমিশন বরাবরে প্রতিবেদন দাখিল করবে অভিযানকারী দুদক টিম।

দুদক জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদপত্রে রেলে বাসা বরাদ্দের বিষয়ে খবর প্রকাশের পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিজেরা গত ২৭ অক্টোবর ১৫৪টি বাসায় সিলগালা করে দিয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এমন অনিয়ম চলে আসলেও এবিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থায় নেয়নি।

এছাড়া কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া কিছু কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করে দেখা যায় এই পাঁচ হাজার বাসার মধ্যে পাঁচ শতাধিক বাসা খালি রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। রেলের শ্রমিক নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরাই এসব বাসা দখলে নিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। কিন্তু এর এক পয়সাও যায়না সরকারি কোষাগারে। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে কোন জবাব পাওয়া যায়নি।