• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৭ সকাল

কিছু রোহিঙ্গার ‘স্বেচ্ছায়’ ফেরা নিয়ে মিয়ানমারের দাবি যাচাই করবে বাংলাদেশ

  • প্রকাশিত ০৫:৫৯ সন্ধ্যা অক্টোবর ৩১, ২০১৯
রোহিঙ্গা
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) আরো ৪৬ জন রোহিঙ্গা ফিরে গেছেন বলে দাবি করেছে ঢাকাস্থ মিয়ানমার দূতাবাস। ফেসবুক

ঢাকায় মিয়ানমার দূতাবাসের ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, আরো ৪৬ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি নিজেদের ইচ্ছায় রাখাইনে ফিরে গেছেন

মিয়ানমার তাদের দেশে কিছু রোহিঙ্গার স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার বিষয়ে যে দাবি করছে তা যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীয় ঢাকায় নিজ কার্যালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, “দাবিটি যাচাই করার পর আমরা একটি সংবাদ বিবৃতি দেব।”

ঢাকায় মিয়ানমার দূতাবাসের ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে ৪৬ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) নিজেদের ইচ্ছায় তাং পিয়ো লেটওয়ে এবং এনগা খু ইয়া অভ্যর্থনা কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরে গেছেন। এর আগে গত ২২ অক্টোবরও দেশটি দাবি করেছিল বিভিন্ন সময়ে ৩৫১ জন রোহিঙ্গা রাখাইনে ফিরে গেছেন। 


আরো পড়ুন - ৩৫১ রোহিঙ্গার ফিরে যাওয়া নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে মিয়ানমার


মিয়ানমারের দাবি, ফেরত যাওয়াদের পররাষ্ট্র, সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, শ্রম এবং জনসংখ্যা ও অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তারা উষ্ণভাবে গ্রহণ করেছেন।

দেশটি আরও দাবি করছে যে এখন পর্যন্ত ৩৯৭ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরেছেন এবং তাদের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি মাসে চাল, রান্নার তেল ও খাদ্যসামগ্রী যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে।

তবে একটি কূটনীতিক সূত্র জানিয়েছে, ইউএনএইচসিআর এবং আরআরাআরসি কর্মকর্তারা এ ধরনের স্বেচ্ছায় ফেরা বিষয়ে অবগত নন।

রোহিঙ্গাদের ১৫ নভেম্বর থেকে ভাসানচরে সম্ভাব্য স্থানান্তর শুরুর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি ইউরোপ সফর শেষ করে মাত্রই গতকাল দেশে ফিরেছেন। তাই এ সুনির্দিষ্ট তারিখ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

নিজ কার্যালয়ে আরেক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “যদি তারা (ভাসানচরে) যায় তো ভালো। আমি অনেক খুশি হব।”

রোহিঙ্গাদের স্থায়ী প্রত্যাবাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে মিয়ানমারের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা এড়াতে দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার জন্য অবিরাম প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে বুধবার অভিযোগ তোলে বাংলাদেশ।

সেই সাথে নেপিডোর “ভিত্তিহীন অভিযোগ, মিথ্যাচার ও সত্যের ভুল উপস্থাপনাকে” খারিজ করে দিয়ে ঢাকা তাদের সাজানো প্রচারণা বন্ধ এবং কর্তব্য পালনে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানায়।

“যে মূল কারণগুলো বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে সেগুলো সমাধানে মিয়ানমারকে অবশ্যই স্পষ্টভাবে কাজ করতে হবে,” জানায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন। তাদের বেশিরভাগই নিজ দেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর রাখাইন রাজ্য থেকে সীমান্ত পেরিয়ে কক্সবাজারে প্রবেশ করেছেন।

গত দুই বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার।

রোহিঙ্গাদের ফেরার জন্য রাখাইন রাজ্যে “প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি না হওয়ায়” এবং তাদের মাঝে থাকা “আস্থার ঘাটতি” মিয়ানমার দূর করতে না পারায় তাদের প্রত্যাবাসনের দুটি প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে ব্যর্থ হয়েছে।